
ডেস্ক রিপোর্ট :
বর্ষা মৌসুম শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই সারাদেশে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছেন শত শত মানুষ। সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ না নেওয়ায় বাড়ছে প্রাণহানির ঝুঁকিও। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়া এবং এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করাই ডেঙ্গু থেকে বাঁচার প্রধান উপায়।
ডেঙ্গুর লক্ষণ ও বিপদচিহ্ন
সাধারণ লক্ষণ: হঠাৎ উচ্চ জ্বর (১০১-১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট), তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ও শরীরে তীব্র ব্যথা, বমি ভাব এবং ত্বকে লালচে র্যাশ।
বিপদচিহ্ন (জরুরি হাসপাতালে ভর্তি প্রয়োজন): পেটব্যথা, বারবার বমি, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া, পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়া, শ্বাসকষ্ট এবং মারাত্মক দুর্বলতা।
ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সুরক্ষায় ১০টি জরুরি নির্দেশনা
১. জমে থাকা পানি অপসারণ করুন: এডিস মশা পরিষ্কার ও স্থির পানিতে ডিম পাড়ে। ফুলের টব, এসির ট্রে, টায়ার, ডাবের খোসা কিংবা ফ্রিজের জমা পানি অন্তত ৩ দিনের বেশি জমতে দেবেন না। সপ্তাহে অন্তত একদিন এসব পাত্র পরিষ্কার করুন।
২. দিনের বেলায়ও সতর্ক থাকুন: এডিস মশা প্রধানত দিনের বেলা, বিশেষ করে সকাল ও বিকালের দিকে বেশি সক্রিয় থাকে। তাই এ সময় মশার কামড় থেকে সতর্ক থাকা জরুরি।
৩. ফুলহাতা পোশাক পরিধান করুন: বাইরে বের হলে ফুলহাতা জামা, লম্বা প্যান্ট ও মোজা পরার অভ্যাস করুন। শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ খেয়াল রাখুন।
৪. নিয়মিত মশারি ব্যবহার করুন: শুধু রাতে নয়, দিনের বেলা ঘুমানোর সময়েও মশারি ব্যবহার করুন। শিশু, বয়স্ক ও রোগীদের সুরক্ষায় এটি অত্যন্ত জরুরি।
৫. মশা নিরোধক ব্যবহার করুন: বাইরে বের হওয়ার আগে মশা তাড়ানোর ক্রিম, স্প্রে বা বাসায় ভ্যাপোরাইজার ব্যবহার করতে পারেন। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে ত্বকে নিরাপদ পণ্য বেছে নিন।
৬. চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ নয়: জ্বর হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আইবুপ্রোফেন বা ডাইক্লোফেনাকের মতো ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করা থেকে বিরত থাকুন, কারণ এটি রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। জ্বর কমানোর জন্য কেবল প্যারাসিটামল সেবন করা যেতে পারে।
৭. পর্যাপ্ত তরল খাবার গ্রহণ করুন: ডেঙ্গু হলে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হয়। তাই প্রচুর পানি, ওরস্যালাইন, ডাবের পানি, স্যুপ ও ফলের রস পান করুন।
৮. বিপজ্জনক লক্ষণ দেখলেই হাসপাতালে যান: অতিরিক্ত পেটব্যথা, বমি বা রক্তক্ষরণের মতো কোনো বিপদচিহ্ন দেখা দিলে বিন্দুমাত্র দেরি না করে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করুন।
৯. আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখুন: শুধু নিজের ঘর নয়, বারান্দা, ছাদ, গ্যারেজ এবং বাড়ির আশপাশের ড্রেন পরিষ্কার রাখুন।
১০. সামাজিক সচেতনতা বাড়ান: ডেঙ্গু প্রতিরোধে একা সুরক্ষিত থাকা সম্ভব নয়। আপনার প্রতিবেশী ও চারপাশের মানুষকে সচেতন করুন এবং যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালান।
শেষ কথা
ডেঙ্গু ভাইরাসের সুনির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। তবে সঠিক তথ্য জানা, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা মেনে চলা এবং লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার মাধ্যমে খুব সহজেই ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।