সন্ধ্যা ৬:২৩ সোমবার ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বান্দরবানে দুস্থ ও অসচ্ছল পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছে বিজিবি

 

বাসুদেব বিশ্বাস,বান্দরবান: টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বান্দরবানের খানসামা পাড়া ও বিজিবি পাড়া এলাকার ১০০ দুস্থ ও অসচ্ছল পরিবারের মাঝে খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে বান্দরবান বিজিবি সেক্টর সদর দপ্তরের উদ্যোগে এ ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও জরুরি ত্রাণ তুলে দেওয়া হয়।
এসময় বান্দরবান সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মুহাম্মদ রুবায়াত জামিল বলেন, বিজিবির মহাপরিচালকের দিকনির্দেশনায় বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে সাধারণ জনগণ ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো বিজিবির অন্যতম দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, বন্যা, অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল, ভূমিধসসহ বিভিন্ন দুর্যোগে বিজিবি নিয়মিত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা, নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দেওয়া, খাদ্য সহায়তা প্রদান এবং প্রয়োজনীয় মানবিক সহযোগিতা দিয়ে আসছে| সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতিতেও বাহিনীর সদস্যরা মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বান্দরবানে চলমান বন্যা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। দুর্গত মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী ত্রাণ বিতরণ, জরুরি খাদ্য সহায়তা এবং যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় বিজিবি সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,বান্দরবান সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মুহাম্মদ রুবায়াত জামিল, সহকারী পরিচালক মো. সেলিম রানা, সুবেদার মো. হাফিজ এবং নায়েক সুবেদার আফতাবুজ্জামানসহ বিজিবির অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যরা।
উল্লেখ্য, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে বহু পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্র ও নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। অনেক এলাকায় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকট দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিজিবির এই ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব করতে সহায়ক হবে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *