
মিরসরাই প্রতিনিধি :
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বারিয়ারহাট এলাকায় কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ী ও সাধারণ বিক্রেতারা। অভিযোগ উঠেছে, একটি অসাধু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে চামড়ার ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সংগ্রহকারীরা। ফলে শতশত চামড়া বিক্রি করতে না পেরে রাস্তাঘাট ও খোলা স্থানে ফেলে যেতে বাধ্য হয়েছেন অনেকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর চামড়া শিল্পে বড় ধরনের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সৃষ্টি হলেও এবার পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাজারে চামড়ার দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়ে ব্যবসায়ীদের মাঝে। অনেকেই জানান, লবণ ও পরিবহন খরচও উঠছে না। এতে করে বিক্রি না হওয়া বিপুল পরিমাণ চামড়া বিভিন্ন স্থানে পড়ে থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
বারিয়ারহাট এলাকার বিভিন্ন সড়ক ও বাজার এলাকায় দেখা গেছে, অবিক্রীত চামড়া দীর্ঘ সময় পড়ে থাকায় পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পচনশীল এসব চামড়া থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি রোগজীবাণু বিস্তারের ঝুঁকিও বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।
চামড়া ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেন, কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেট বাজার নিয়ন্ত্রণ করে কৃত্রিমভাবে দাম কমিয়ে রেখেছে। ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও এতিমখানা-মাদরাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল এসোসিয়েশন মিরসরাই উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ডা: মাজহারুল আনোয়ার চৌধুরীড বলেন ” দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় রপ্তানিমুখী শিল্প চামড়া খাতকে বাঁচাতে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং চামড়া সংরক্ষণ ও বিপণনে আধুনিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার দাবি জানান তিনি ।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত এসব অবিক্রীত চামড়া অপসারণ ও পরিবেশ দূষণ রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বারিয়ারহাট বাজার ব্যবসায়ী মতিন স্টোরের স্বত্বাধিকারী আব্দুল মতিন সওদাগর।