সকাল ৭:৩৯ সোমবার ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মনিরামপুরে গুলি ও গলা কেটে দৈনিক বিডি খবরের নির্বাহী সম্পাদকে হত্যা

যশোর প্রতিনিধি :

যশোরের মনিরামপুরে প্রকাশ্য স্থানে গুলি ও গলা কেটে দৈনিক বিডি খবর পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক রানা প্রতাপ বৈরাগী (৩৫)কে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে উপজেলার কপালিয়া বাজার এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনার সময় ছোড়া একটি গুলি পাশের ক্লিনিকের কাঁচ ভেদ করে ভেতরে ঢুকে পড়লে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ জানায়, কপালিয়া বাজারে অবস্থিত রানা প্রতাপ বৈরাগীর মালিকানাধীন বরফকল মিল থেকে অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি তাকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে বরফকল থেকে আনুমানিক ১০০ গজ পশ্চিমে কপালিয়া ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার সংলগ্ন ঝুম বিউটি পার্লারের গলিতে নিয়ে তাকে লক্ষ্য করে একাধিক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। গুলিবিদ্ধ করার পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ঘটনাকালে ছোড়া একটি গুলি কপালিয়া ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিসিপশনের সামনের কাঁচ ভেদ করে ভেতরে ঢুকে পড়ে। এতে ক্লিনিকের ভেতরে থাকা রোগী ও স্বজনদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ৩টি তাজা গুলি ও ৫টি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে। নিহতের বাম কান, মাথা ও বুকে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। শীতকালীন আবহাওয়ার কারণে ওই সময় বাজার এলাকায় লোকসমাগম তুলনামূলক কম থাকায় প্রত্যক্ষদর্শীর সংখ্যা সীমিত ছিল।
নিহত রানা প্রতাপ বৈরাগী এক ছেলে সন্তানের জনক। একমাত্র ছেলে রাজ প্রতাপ বৈরাগী বাবার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। স্বজনদের ভাষ্য, বাবার মরদেহ দেখার পর থেকে সে প্রায় পাগলপ্রায় অবস্থায় রয়েছে।
তিনি যশোরের কেশবপুর উপজেলার আড়ুয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং স্কুলশিক্ষক দুর্গাপদ বৈরাগীর সন্তান। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি কপালিয়া বাজারে একটি বরফকলের মালিক ছিলেন। তিনি নড়াইল থেকে প্রকাশিত দৈনিক বিডি খবর পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
নিহতের স্ত্রী সীমা বৈরাগী জানান, কপালিয়া বাজারে অবস্থিত অপর একটি বরফকলের মালিক জিয়ার সঙ্গে তার স্বামীর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেছেন।
খবর পেয়ে নেহালপুর পুলিশ ফাঁড়ি, মনিরামপুর থানা পুলিশ, যশোর জেলা পুলিশ, র্যাব ও ডিবি পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ ও তদন্ত শুরু করে। ঘটনার পরপরই মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তার ফারুক মিন্টু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান আক্তার ফারুক মিন্টু বলেন, “এটি একটি অত্যন্ত নৃশংস ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। প্রকাশ্য স্থানে এমন ঘটনা এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
মনিরামপুর থানা পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ ও জড়িতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। হত্যার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *