
বিনোদন ডেস্ক :
বলিউডের কিং খান শাহরুখ খানের নতুন সিনেমা ‘কিং’ এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এই সিনেমাটি শুধুমাত্র তারকা বাহুল্যের জন্য নয়, বরং তার বিশাল বাজেট, বিশ্বমানের অ্যাকশন দৃশ্য এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারকে সামনে রেখে বলিউডের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সিনেমাগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে পরিচালক সিদ্ধার্থ আনন্দের হাতে ‘কিং’ সিনেমাটির বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছিল প্রায় ১৫০ কোটি রুপি। কিন্তু সিনেমার গল্পের ব্যাপ্তি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, ভিএফএক্স এর আধুনিক প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক মানের চিত্রায়ন যুক্ত হওয়ায়, চূড়ান্ত বাজেট ৩৫০ কোটির কাছাকাছি পৌঁছেছে। এতে প্রোমোশন ও বিপণন ব্যয় অন্তর্ভুক্ত নয়, যা সিনেমাটির মোট খরচ আরও বাড়িয়ে তুলবে।
সিনেমাটির প্রাথমিক ধারণাটি ছিল পরিচালক সুজয় ঘোষের, যিনি এটি একটি মাঝারি বাজেটের থ্রিলার হিসেবে পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে পরে সিদ্ধার্থ আনন্দ এই প্রজেক্টে যুক্ত হয়ে শাহরুখ খানের সঙ্গে বসে পুরো পরিকল্পনাটি নতুনভাবে সাজান। তাদের লক্ষ্য ছিল ভারতের দর্শকদের এমন একটি অ্যাকশন অভিজ্ঞতা উপহার দেওয়া, যা আগে কখনো দেখা যায়নি এবং আন্তর্জাতিক মানের হতে হবে।
‘কিং’ সিনেমায় মোট ছয়টি বড় অ্যাকশন সিকোয়েন্স থাকবে। এর মধ্যে তিনটি সিকোয়েন্স বাস্তব লোকেশনে শুট করা হবে, এবং বাকি তিনটি বিশেষভাবে নির্মিত সেটে করা হবে। বিশেষত শাহরুখ খানের পরিচয় দৃশ্যটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং তা সিনেমার অন্যতম আকর্ষণ হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
শাহরুখ খানের সঙ্গে ‘কিং’ সিনেমায় দেখা যাবে দীপিকা পাডুকোন, রানি মুখার্জি, অনিল কাপুর, অভিষেক বচ্চন ও শাহরুখের কন্যা সুহানা খানকে। এছাড়াও ফাহিম ফাজিল, রাঘব জুয়াল, জয়দীপ আহলাওয়াত, সৌরভ শুক্লা, জ্যাকি শ্রফ এবং আরশাদ ওয়ার্সির মতো নামকরা তারকারাও এই সিনেমায় অংশগ্রহণ করছেন। প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছেন গৌরী খান ও মমতা আনন্দ, এবং শাহরুখ নিজেও প্রযোজক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন।
২০২৬ সালে মুক্তির পরিকল্পনা করা ‘কিং’ সিনেমা ইতিমধ্যেই ট্রেড বিশ্লেষক এবং ফ্যানদের মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি শাহরুখ খানের ক্যারিয়ারের অন্যতম বৃহৎ ও উচ্চমানের প্রজেক্ট হবে। মুক্তির পর এটি একটি বড় ব্লকবাস্টার হিট হওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল।
‘কিং’ সিনেমার বিশাল বাজেট এবং আন্তর্জাতিক মানের অ্যাকশন সিকোয়েন্স বলিউড সিনেমার উৎপাদনশৈলীতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করতে পারে। এটি শুধু মাত্র বিনোদনের জন্য নয়, বরং ভারতের সিনেমা শিল্পকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচিত হবে। দর্শকদের জন্য এটি একটি নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা এনে দেবে, যা অ্যাকশন প্রেমীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণীয় হবে। একই সঙ্গে, এই সিনেমার সাফল্য বা ব্যর্থতা ভবিষ্যতে বলিউডের বড় বাজেটের প্রজেক্টগুলোর জন্য দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে।