
স্পোর্টস ডেস্ক:
দিনের শেষ ওভারের স্রেফ ২ বল বাকি তখন। ভারতের দেওয়া বড় লক্ষ্য তাড়ায় জ্যাক ক্রলি ও বেন ডাকেটের ব্যাটে ভালোভাবে দিন শেষ করার আশায় ইংল্যান্ড। সেই মুহূর্তে আঘাত হানলেন মোহাম্মদ সিরাজ। দুর্দান্ত এক ইয়র্কারে ক্রলির স্টাম্প ভেঙে দিলেন এই পেসার। ব্যাটে-বলে দারুণ লড়াইয়ের দিন শেষে ওভাল টেস্টে এখন দারুণ নাটকীয়তার হাতছানি।
অ্যান্ডারসন-টেন্ডুলকার ট্রফির সিরিজ নির্ধারণী পঞ্চম ও শেষ টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে কিছুটা এগিয়ে ভারত। ইয়াশাসভি জয়সওয়ালের সেঞ্চুরিতে ৩৭৪ রানের লক্ষ্য দিয়ে ৫০ রানে ইংলিশদের একটি উইকেট তুলে নিয়েছে তারা। এখনও ৩২৪ রানে এগিয়ে আছে শুবমান গিলের দল।
প্রথম ইনিংসে ২২৪ রানে গুটিয়ে যাওয়া ভারত ঘুরে দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে করে ৩৯৬ রান। এর বড় কৃতিত্ব জয়সওয়ালের; টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরিতে ১১৮ রান করেন তিনি। তার ১৬৪ বলের ইনিংসটি ২ ছক্কা ও ১৪টি চারে গড়া।
অবদান কম নয় ‘নাইটওয়াচম্যান’ আকাশ দিপেরও। মূলত পেসার হলেও ব্যাট হাতে ঝলক দেখান তিনি। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটিতে ১২ চারে করেন ৬৬ রান। এছাড়া রাভিন্দ্রা জাদেজার ৫ চারে ৫৩ ও ওয়াশিংটন সুন্দারের চারটি করে ছক্কা-চারে ৪৬ বলে ৫৩ রানের ইনিংসও রাখে বড় ভূমিকা।
ভারতকে আরও বড় রান করতে দেননি জশ টং। দুর্দান্ত বোলিংয়ে টেস্টে দ্বিতীয়বারের মতো ইনিংসে পান পাঁচ উইকেটের স্বাদ। এই পেসারের শিকার ছন্দে থাকা লোকেশ রাহুল, জয়সওয়াল, জাদেজা, ওয়াশিংটন ও সিরাজ।
২ উইকেটে ৭৫ রান নিয়ে খেলতে নামা ভারতকে নতুন দিনে শক্ত ভিত গড়ে দেন জয়সওয়াল ও আকাশ। দুজনে গড়েন ১০৭ রানে জুটি। তাদের যুগলবন্দি অনেক আগেই অবশ্য ভাঙার সুযোগ পেয়েছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু দিনের অষ্টম ওভারে টংয়ের বলে স্লিপে আকাশের ক্যাচ ছাড়েন ক্রলি।
২১ রানে জীবন পাওয়া আকাশ ইংলিশ বোলারদের ভুগিয়ে ৭০ বলে স্পর্শ করেন ফিফটি। ১৪ বছর পর পঞ্চাশের স্বাদ পেলেন ভারতের কোনো ‘নাইটওয়াচম্যান’। তার প্রতিরোধ অবশেষে ভাঙেন জেমি ওভারটন।
দ্বিতীয় সেশনের প্রথম বলে অধিনায়ক গিলকে হারিয়ে ধাক্কা খায় ভারত। দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ব্যাটসম্যানকে ১১ রানে এলবিডব্লিউ করে দেন গাস অ্যাটকিনসন। ৪ সেঞ্চুরিতে ৭৫৪ রান নিয়ে সিরিজ শেষ করলেন গিল। ২০ রানের জন্য অক্ষত রয়ে গেল ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এক সিরিজে সুনিল গাভাস্কারের করা ৭৫৪ রানের রেকর্ড।
কারুন নায়ারও পারেননি টিকতে। আগের ইনিংসে ফিফটি করা ব্যাটসম্যান এবার করতে পারেন কেবল ১৭ রান। আট বছর পর ফেরার সিরিজে দলের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি তিনি। ছয় ইনিংসে করতে পারেন কেবল ২০৫ রান, সর্বোচ্চ ৫৭।
এক প্রান্ত ধরে রেখে নিজের মতো খেলে যান জয়সওয়াল। আগের দিন ৫১ রান করতে দুই দফায় জীবন পাওয়া ভারতীয় ওপেনার এদিন ১২৭ বলে পা রাখেন তিন অঙ্কের ঠিকানায়। সিরিজের প্রথম ইনিংসেও সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি।
জয়সওয়ালের এই সেঞ্চুরিতে টেস্ট ক্রিকেটের একটি রেকর্ডে নাম উঠে যায় ভারতের। চলতি সিরিজে এনিয়ে দ্বাদশ শতকের দেখা পেল দলটি। এক সিরিজে তাদের চেয়ে বেশি সেঞ্চুরি নেই কোনো দলের। তাদের সমান ১২টি করে সেঞ্চুরি আছে অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার।
সেঞ্চুরির পরও এক দফায় বেঁচে যাওয়া জয়সওয়ালকে শেষ পর্যন্ত থামান টং। শর্ট বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ধরা পড়েন ২৩ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান।
এরপর ধ্রুভ জুরেলকে নিয়ে ৫০ রানের জুটি গড়েন জাদেজা। ৪টি চারে ৩৪ রান করা জুরেলকে এলবিডব্লিউ করে জমে যাওয়া যুগলবন্দি ভাঙেন ওভারটন।
সিরিজ জুড়ে দুর্দান্ত ব্যাটিং উপহার দেওয়া জাদেজা থামেন ৫টি চারে ৫৩ রান করে। এক সেঞ্চুরি ও ৫ ফিফটিতে এই সিরিজে তার রান ৫১৬। জাদেজাকে ফেরানো টং দুই বল পর এলবিডব্লিউ করে দেন সিরাজকে। রিভিউ না থাকায় ব্যাটে বল লাগালেও বাঁচতে পারেননি সিরাজ।
শেষ ব্যাটসম্যান প্রাসিধ কৃষ্ণাকে নিয়ে দ্রুত রান তোলায় মনোযোগ দেন ওয়াশিংটন। অ্যাটকিনসনের দুই ওভারে দুটি করে ছক্কা ও চার মারেন তিনি। মাঝের ওভারে দুইবার ছক্কায় ওড়ান টংকে। ৩৯ বলে ফিফটি করা ওয়াশিংটনের ঝড় থামিয়ে ভারতের ইনিংস গুটিয়ে দেন টং, পূর্ণ করেন পাঁচ উইকেট।
ভারতের বিপক্ষে ৩৭৪ রানের চেয়েও বড় লক্ষ্য তাড়া করে জয় আছে ইংল্যান্ডের। এজবাস্টনে তিন বছর আগে ৩৭৮ রানের লক্ষ্যে ৭ উইকেটে জিতেছিল তারা।
এবারের লক্ষ্য তাড়ায়ও আত্মবিশ্বাসী শুরু করে ইংল্যান্ড। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ক্রলির বিদায় কিছুটা চাপে ফেলে দিয়েছে তাদের। ২ চারে ১৪ রান করে ফেরেন ক্রলি। দারুণ ব্যাটিংয়ে ৪টি চারে ৩৪ রানে খেলছেন ডাকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত ১ম ইনিংস: ২২৪
ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ২৪৭
ভারত ২য় ইনিংস: ৮৮ ওভারে ৩৯৬ (আগের দিন ৭৫/২) (জয়সওয়াল ১১৮, আকাশ ৬৬, গিল ১১, নায়ার ১৭, জাদেজা ৫৩, জুরেল ৩৪, ওয়াশিংটন ৫৩, সিরাজ ০, প্রাসিধ ০*; অ্যাটকিনসন ২৭-৩-১২৭-৩, টং ৩০-৪-১২৫-৫, ওভারটন ২২-২-৯৮-২, বেথেল ৪-০-১৩-০, রুট ৫-১-১৫-০)
ইংল্যান্ড ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ৩৭৪) ১৩.৫ ওভারে ৫০/১ (ক্রলি ১৪, ডাকেট ৩৪*; আকাশ ৫-১-১৫-০, প্রাসিধ ৫-১-২৩-০, সিরাজ ৩.৫-০-১১-১)