
মাদারীপুর প্রতিনিধি :
মাদারীপুর পৌর শহরের অন্যতম প্রধান সড়ক শহীদ বাচ্চু সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। প্রায় ৩০০ মিটার সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ, যা বর্তমানে মরণফাঁদে রূপ নিয়েছে। সম্প্রতি কয়েক দফা বৃষ্টিতে সড়কটির অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে উঠেছে, যার ফলে প্রতিদিন ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।মাদারীপুর সদর মডেল থানার সামনে থেকে শুরু হয়ে প্রায় ১.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি শহরের একমাত্র বাণিজ্যিক এলাকা পুরান বাজার যাওয়ার প্রধান পথ। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে হাজার হাজার যানবাহন ও পথচারী চলাচল করে। এছাড়া সড়কের দুই পাশে রয়েছে অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
বৃহস্পতিবার (আজ) সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো পানিতে ভরে যায়। অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সড়ক থেকে পানি নিষ্কাশন হয় না, যার ফলে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায় পুরো সড়ক। এতে যানবাহন চলাচল ও পথচারীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
রিকশাচালক ফারুক হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “এই সড়কের অবস্থা ভয়াবহ। এই সড়কে রিকশা চালালে এক মাসেই রিকশার অবস্থা খারাপ হয়ে যায়।”
শহীদ বাচ্চু সড়ক সংলগ্ন মেসার্স শৈবাল এন্টারপ্রাইজের মালিক নান্নু মুন্সি বলেন, “আমার দোকানের সামনে থেকে মাস্টার কলোনি জামে মসজিদ পর্যন্ত প্রায় ১০০ মিটার রাস্তা চলাচলের অযোগ্য। নতুন টেন্ডার হওয়ার আগ পর্যন্ত পৌর কর্তৃপক্ষ কিছু ইট ফেলে রোলার দিয়ে ঘষে দিলে আপাতত চলা যেত।”
তরমুগুরিয়া এলাকার মেসার্স রুবেল ট্রেডার্সের মালিক জাহাঙ্গীর মাতুব্বর বলেন, “তরমুগুরিয়া জামে মসজিদ থেকে কাজী টাওয়ার পর্যন্ত প্রায় ১৫০ মিটার রাস্তা যেন মরণফাঁদ। এখানে প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। আপাতত রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করুক, তা না হলে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।”মটখোলা এলাকার শহীদ সড়ক সংলগ্ন বিসমিল্লাহ ফার্নিচারের মালিক অলিউল হক বলেন, “মটখোলা থেকে কাজীর মোড় পর্যন্ত প্রায় ৫০ মিটার রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার চাই।”এ বিষয়ে মাদারীপুর পৌরসভার প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুল আলম (উপসচিব) বলেন, “আমরা অতি দ্রুত রাস্তাটি মেরামত করব। শুধু শহীদ বাচ্চু সড়কই নয়, সারা শহরেই কাজ করা হবে।”