
বর্তমানে শিশু ও বৃদ্ধসহ সব বয়সী মানুষের মধ্যে ভাইরাল জ্বর খুব সাধারণ একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সময় মৌসুমি পরিবর্তন, বৃষ্টিজনিত স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ, এবং ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির ফলে সবাই আক্রান্ত হচ্ছে। ভাইরাল জ্বর সাধারণত ৫–৭ দিনের মধ্যে সেরে যায়, তবে কিছু সতর্কতা ও যত্ন না নিলে জটিলতাও হতে পারে।
✅ ভাইরাল জ্বর হলে করণীয়:
🛌 বিশ্রাম:
শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় রাখার জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া জরুরি।
💧 পানি ও তরল খাবার:
প্রচুর পরিমাণে পানি, স্যুপ, ডাবের পানি, ইলেক্ট্রোলাইট (ORS) খেতে হবে, যাতে পানিশূন্যতা না হয়।
শিশুদের ক্ষেত্রে দুধ, ভাতের মাড়, ফলের রস দিতে পারেন (চিনি ছাড়া)।
🌡️ জ্বর মাপা ও নিয়ন্ত্রণ:
▪️নিয়মিত শরীরের তাপমাত্রা মাপুন।
▪️জ্বর বেশি হলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল খাওয়ানো যেতে পারে।
▪️অতিরিক্ত গরমে শরীর স্পঞ্জিং (পানি দিয়ে গা মুছে দেওয়া) করতে পারেন।
🥗 পুষ্টিকর সহজপাচ্য খাবার:
🏷️নরম ভাত, ডাল, সবজি, ফলমূল।
▪️শিশুদের তরল খাবার, ভাতের পানি, সুজি খাওয়ানো যেতে পারে।
▪️বৃদ্ধদের জন্য হালকা স্যুপ বা খিচুড়ি উপযুক্ত।
💊 ডাক্তারের পরামর্শ:
যদি ৩ দিনের বেশি জ্বর থাকে, প্রচণ্ড দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট, বমি, ডায়রিয়া হয় তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
🔺ডেঙ্গু, টাইফয়েড বা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো রোগও ভাইরাল জ্বরের মধ্যে থাকে, তাই রক্ত পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।
🛡️ প্রতিরোধে করণীয়:
1. হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন (বিশেষ করে খাবার আগে ও টয়লেটের পরে)।
2. শিশু-বৃদ্ধদের বেশি জনসমাগমপূর্ণ জায়গায় না নেওয়াই ভালো।
3. হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মানা (মুখে রুমাল/টিস্যু ব্যবহার করা)।
4. ঘর ভালোভাবে পরিষ্কার ও বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখা।
5. সঠিক পুষ্টি ও পর্যাপ্ত পানি পান করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো।
বিশেষ টিপস শিশুদের জন্য:
▪️৬ মাসের নিচের শিশুর ক্ষেত্রে বুকের দুধই যথেষ্ট (প্রয়োজনে মায়ের ডায়েট ঠিক রাখতে হবে)।
▪️জ্বর থাকলে বেশি কাপড় না পরিয়ে হালকা জামা দিন।
বৃদ্ধদের জন্য:
দীর্ঘস্থায়ী অসুখ থাকলে (যেমন ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন), নিয়মিত ওষুধ চলতে হবে ও চিকিৎসকের পরামর্শে থাকুন।
🔺অবশ্যই বয়সভেদে বা লক্ষণ অনুযায়ী খাবার বা পথ্য খেতে হবে।
মাহমুদা আফরিন
পুষ্টিবিদ
পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিমিটেড, শ্যামলী শাখা -২, কলেজ গেট, ঢাকা -১২১২