রাত ১:০০ বৃহস্পতিবার ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরীক্ষা না দিতে পেরে রাস্তায় গড়াগড়ি পরীক্ষার্থীর

রাজশাহী প্রতিনিধি :
রাজশাহীতে ৪৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পেরে রাস্তায় শুয়ে পড়ে কান্নায় গড়াগড়ি দিলেন এক পরীক্ষার্থী। শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) রাজশাহীর সাহেববাজার এলাকার মসজিদ মিশন স্কুল কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী ফাহাদ ফয়সাল বলেন, ‘স্যার আমাকে পরীক্ষা দিতে দিন, এটা আমার জীবনের শেষ পরীক্ষা। তা না হলে আমি মরে যাব স্যার! একটা সুযোগ দিন স্যার।’ আকুতির কথা বলতে বলার একপর্যায়ে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্নে বিভোর ফাহাদ ফয়সাল ঐ পরীক্ষাকেন্দ্রের প্রধান ফটক টপকিয়ে হলে প্রবেশের চেষ্টা করেন। কিন্তু পুলিশ তাকে বাধা দিয়ে ফের ফটকের বাইরে বের করে দেয়। এসময় হলে প্রবেশ করতে না পেরে পরে ফাহাদ ফয়সাল কান্না জড়িত অবস্থায় রাস্তায় শুয়ে পড়েন। এসময় তিনি বার বার বলছিলেন- আমি মরে যাব, এই পরীক্ষা না দিতে পারলে আমি মরে যাব স্যার। আমি আর বাঁচবো না।’
এসময় তিনি কেন্দ্রের সামনের রাস্তায় চিৎকার করে কেঁদেছেন। রাস্তায় মাথা ঠুকরে গড়াগড়িও খেয়েছেন, বুক চাপড়ে আহাজারি করেছেন। তবুও মন গলেনি পরীক্ষা কেন্দ্রের সংশ্লিষ্টদের। ঘটনার সময় ঐ রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে এত আহাজারির পরও ফাহাদ ফয়সাল পরীক্ষা দিতে পারেননি। একপর্যায়ে পুলিশ তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। এরপর তিনি কাদতে কাদতে সেখান থেকে চলে যান।

জানা গেছে, ৪৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার্থী ফাহাদ ফয়সালের। ফাহাদ ফয়সালের বাড়ি নওগাঁ জেলায়। তার বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারার কারণ হিসেবে জানা গেছে, পরীক্ষা শুরুর কথা ছিল সকাল ১০টায়। নিয়ম ছিল পরীক্ষা শুরুর আধাঘণ্টা আগে (সাড়ে ৯টায়) কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে পরীক্ষার্থীদের। ফাহাদ কেন্দ্রের সামনে যখন এসেছিলেন তখন ঘড়িতে ৯টা ৪০ মিনিট বাজছিল। ইতোমধ্যে পরীক্ষাকেন্দ্রের প্রধান ফটক বন্ধও করে দেওয়া হয়েছিল। তাই তাকে কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ভেতরে ঢুকতে দিতে প্রথমে পুলিশ সদস্যদের অনুরোধ করেন ফাহাদ ফয়সাল। কিন্তু পুলিশ রাজি হয়নি।
জানতে চাইলে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নূর আহমেদ মাছুম বলেন, কয়েকদিন আগে পিএসসি’র চেয়ারম্যান সকল কেন্দ্রসচিবের সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল মিটিং করেন। তিনি নির্দেশ দেন, পরীক্ষা শুরুর আধাঘণ্টা আগে কেউ কেন্দ্রে প্রবেশ না করলে তাকে যেন আর ঢুকতে দেওয়া না হয়। সেই নির্দেশনাই আজ পরীক্ষা গ্রহণকালে বাস্তবায়ন করা হয়েছে মাত্র। ওই পরীক্ষার্থীর সময়মতো কেন্দ্রে আসা উচিত ছিল। এ জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়।
রাজশাহী মহানগরীর ২৯টি কেন্দ্রে শুক্রবার বিভাগের আট জেলার পরীক্ষার্থী ছিলেন ৩১ হাজার ৯৪৭ জন। এরমধ্যে পরীক্ষা দিয়েছেন ২৪ হাজার ১১৮ জন। সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত সুষ্ঠুভাবেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তবে পরীক্ষা চলাকালে শাহ মখদুম কলেজ কেন্দ্রে এক পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। এছাড়া অন্যান্য কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *