বিকাল ৪:১৩ সোমবার ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজীপুরে ভেজাল জুস খেয়ে শিশু অসুস্থ হওয়ার অভিযোগ পেয়ে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার ১০ জন

 

গাছা(গাজীপুর)  প্রতিনিধি :গাজীপুর নগরীতে ‘ভেজাল জুস’ খেয়ে শিশু অসুস্থ হওয়ার অভিযোগ পেয়ে অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় বিপুল পরিমাণ নকল খাদ্যপণ্য, উপকরণ ও যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

বুধবার দুপুরে নগরীর নলজানীর বিআরটি প্রকল্প মাঠে গাজীপুর মহানগর পুলিশের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ইব্রাহিম খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

গ্রেপ্তাররা হলেন মো. ইসমাইল হোসেন (৩১), মো. মোস্তাফিজুর রহমান কুদ্দুস (৪৭), মো. খাইরুল ইসলাম বুলবুল (৪০), মো. মোশারফ হোসেন (২৫), মো. রবিউল (৪৮), মো. মাসুদ রানা (২৫), মো. রফিকুল ইসলাম (৪০), মো. খবির উদ্দিন (৪৫), মো. জীবন রহমান (৪০) ও মো. হাফিজুর রহমান (৩২)।

উপ-পুলিশ কমিশনার ইব্রাহিম খান জানান, সম্প্রতি মহানগরের আধেপাশা এলাকার ফিরোজ আলমের মেয়ে স্থানীয় সেলিনা মেমোরিয়াল একাডেমির ৭ম শ্রেণির ছাত্রী মিথিলা স্থানীয় দোকান থেকে ‘লিমন ফুডস এন্ড বেভারেজ কোম্পানী’র তৈরি বোতলজাত লিচুর ‘জুস’ খায়।

“এ জুস খাওয়ার কয়েক মিনিট পরেই মেয়েটির পেটের ব্যাথা ও বমি শুরু হয়। পরে তাকে চিকিৎসা করাতে হয়েছে।”

ইব্রাহিম বলেন, এ কোম্পানির ম্যাংগো জুস, অরেঞ্জ জুসসহ বিভিন্ন ধরনের শিশুখাদ্য খেয়ে অসুস্থ হওয়ার একাধিক অভিযোগ পাওয়ার পর গাজীপুর মহানগরের কামারজুড়ি এলাকার একটি দোকান থেকে বিএসটিআই-এর অনুমোদনহীন ‘ফ্রুটিনা জুস’, ‘লিচি ড্রিংক’, ‘অরেঞ্জ ড্রিংক’ ও ‘আইস ললি’ উদ্ধার করে গাছা থানা পুলিশ।

পরে মঙ্গলবার [২৮ মার্চ] ওই কোম্পানির স্থানীয় ডিপোর মালিক ইসমাইলকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে তিনি জানান।

“জিজ্ঞাসাবাদে ইসমাইল বলেন, মোস্তাফিজুর রহমান নামের এক ব্যক্তি অনুমোদনহীন এসব পণ্যের বিতরণকারী ও উৎপাদনকারী। পরে মোস্তাফিজকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মোস্তাফিজের দেওয়া তথ্যে একইদিন তার সহযোগী খাইরুলকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

“জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সাভারের আশুলিয়ায় মোস্তাফিজের একটি কারখানা রয়েছে এবং সেখানে ওইসব নকল ও ভেজাল শিশুখাদ্য পানীয় উৎপাদন করে বাজারজাত করা হয়। এছাড়া ঢাকার বসিলা, বেরাইদ ও শনির আখড়ায় আরও তিনটি কারখানার সন্ধান পায় পুলিশ।”

ইব্রাহিম জানান, পরে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও ঢাকা মহানগর পুলিশের সহায়তায় গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা ও গাছা থানা পুলিশ ওইসব এলাকায় অভিযান চালিয়ে ‘ভেজাল ও নকল পণ্য’ জব্দ করে।

“এ সময় কারখানা মালিক, ল্যাব টেকনোলজিস্ট, ম্যানেজার ও কর্মচারীসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার এবং প্যাকিং, ড্রিংকস ও শিশুখাদ্য তৈরি উপকরণসহ মেশিনারিজ জব্দ করা হয়। এসব পণ্যের গায়ে বিএসটিআই -এর সিল ব্যবহার করা হলেও সংস্থাটির অনুমোদন নেই।”

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানে ৫৭ হাজার ৩২০ লিটার ম্যাংগো জুস, ৪৫ হাজার ২৫৬ লিটার অরেঞ্জ ও লিচি ড্রিংক, ৩৯৫ বয়াম ক্যান্ডি, ২,৫০০টি আচার ক্যান্ডি, আইস ললি, বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজিং লেভেল, খালি বয়াম, জুস কন্টেইনার, মেশিনারিজ, কেমিকেল, প্রিজারভেটিভ, কৃত্রিম রং, ফ্লেভার ও খালি পলিপ্যাক জব্দ করা হয়েছে।

এ কোম্পানি থেকে গ্রিন স্টার সয়াবিন তেল, গ্রিন স্টার ডেইরি মিল্ক, হজম ক্যান্ডি, পিনাট ক্যান্ডি, কফিকো ক্যান্ডি, ম্যাংগো ড্রিংকস, সরিষার তেল, চিনি গুড়া সুগন্ধি চাল, স্টিক, নুডুলস, লাচ্ছা সেমাই, চকোচকো, কুকিস বিস্কুট, বাটার স্টোস্টসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরি ও বাজার জাত করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এ বিষয়ে গাছা থানার এসআই উত্তম কুমার সূত্রধর বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. মাহবুবুজ্জামান, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. হাফিজুল ইসলাম, সহকারী উপ-কমিশনার মো. ফয়জুর রহমান, গাছা থানার ওসি ইব্রাহিম হোসেনও উপস্থিত ছিলেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *