
আন্তর্জাতিক ডেস্ক রিপোর্ট :
ভারতে আসন্ন লোকসভা ভোটের আগেই পদত্যাগ করেছেন নির্বাচন কমিশনার অরুণ গোয়েল। গত আটই মার্চ নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দেননি তিনি।
লোকসভা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হতে চলেছে শীঘ্রই। রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের প্রার্থী তালিকাও প্রকাশ করছে। এরই মাঝে নির্বাচনি কর্মসূচি ঘোষণার ঠিক আগে অরুণ গোয়েলের হঠাৎ পদত্যাগের কারণ ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও।
দেশটির আইন মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী শনিবার নয়ই মার্চ, ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন এবং এটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকরও হয়েছে।
পদত্যাগপত্রে অরুণ গোয়েল ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করেছিলেন। তবে তার পদত্যাগের সিদ্ধান্তের পিছনে অন্য কারণ রয়েছে বলে মনে করেন অনেকে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার ঠিক আগে ইস্তফা দেওয়াটা ‘স্বাভাবিক’ পরিস্থিতিতে হতে পারে না। কারও মতে নির্বাচনি বিষয়ে ‘মতবিরোধ’ একটা কারণ হতে পারে।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক নেতারাও এ বিষয়ে সরব হয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনাকে ‘রাজনীতির ইতিহাসে কলঙ্ক’ বলে উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে পদত্যাগের পিছনে অন্যান্য কারণের মধ্যে নির্বাচনে দাঁড়ানোও একটা কারণ হতে পারে বলে মনে করেন অনেক নেতা।
কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গাঙ্গুলির মতো মি. গোয়েলও ভোটের লড়াইয়ে সামিল হতে চলেছেন কি না সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস হাইকম্যান্ড জয়রাম রমেশ। একই সঙ্গে অন্যান্য সম্ভাব্য কারণের বিষয়েও উল্লেখ করেছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ভারতের নির্বাচন কমিশন তিনজন কমিশনারকে নিয়ে গঠিত। যার মধ্যে একজন হলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার অর্থাৎ সিইসি। বর্তমানে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমার।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে অবসর নেন অনুপচন্দ্র পাণ্ডে। তার পদে এখনও কেউ যোগ দেননি। এরমধ্যেই হঠাৎই ইস্তফা দিয়েছেন অরুণ গোয়েল।
এই মুহূর্তে নির্বাচন কমিশনে একমাত্র মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমারই রয়েছেন।