স্পোর্টস ডেস্ক:
এশিয়া কাপ ২০২৫ সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচে দারুণ এক লড়াই দেখালো বাংলাদেশ। শ্বাসরুদ্ধকর উত্তেজনায় ভরা ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ১ বল হাতে রেখে ৪ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালের পথে বড় পদক্ষেপ নিল টাইগাররা।
এই জয়ে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে গেল, কারণ গ্রুপপর্বে ঠিক এই শ্রীলঙ্কার কাছেই বড় ব্যবধানে হেরেছিল লিটন দাসের দল।
লঙ্কান অধিনায়ক দাসুন শানাকার হাতে বল তুলে দেওয়া হয়েছিল শেষ ওভারে। জয়ের জন্য দরকার ছিল মাত্র ৫ রান।
প্রথম বল: জাকের আলি অনিক বাউন্ডারি মেরে উল্লাস ছড়ালেন। বাংলাদেশ তখন মাত্র ১ রান দূরে।
দ্বিতীয় বল: সবাই যখন নিশ্চিত জয় ভেবে ফেলেছে, তখনই শানাকার অফকাটে বোল্ড হয়ে ফেরেন জাকের।
তৃতীয় বল: শেখ মেহেদী বল খেলেও রান নিতে পারলেন না।
চতুর্থ বল: মেহেদীর ব্যাট ছুঁয়ে বল যায় উইকেটকিপারের গ্লাভসে। শানাকার জোরালো আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার। তবে রিভিউতে দেখা যায় আসলেই আউট। আবারো চাপে বাংলাদেশ।
এবার সমীকরণ দাঁড়ায়—২ বলে দরকার ১ রান, হাতে ২ উইকেট। ক্রিজে আসেন নাসুম আহমেদ। দলের ভাগ্য যেন ঝুলছে সুতার ওপরে। পঞ্চম বলটি ঠান্ডা মাথায় পয়েন্টে ঠেলে সিঙ্গেলস নিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি।
বাংলাদেশের ব্যাটিং পারফরম্যান্স
১৬৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম শূন্য রানে আউট হয়ে গেলে সমর্থকদের মনে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়। তবে এরপর ব্যাট হাতে দায়িত্ব নেন অন্য ওপেনার সাইফ হাসান।
সাইফ হাসান: তার ব্যাট থেকে আসে ৬১ রান (৪৫ বলে), যার মধ্যে ছিল ২টি চার ও ৪টি ছক্কা। শুরু থেকেই তিনি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন এবং লঙ্কান বোলারদের সামলেছেন দক্ষতার সাথে। তার ব্যাটে ভর করেই ম্যাচের ভিত গড়ে ওঠে। অবশেষে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে নেন তিনি।
লিটন দাস: সাইফের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ৫৯ রানের জুটি গড়ে দলের চাপ কমান। তবে ২৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন।
তাওহিদ হৃদয়: সমালোচনায় জর্জরিত এ ব্যাটার অবশেষে জ্বলে ওঠেন। ৩৭ বলে ৫৮ রানের ইনিংস সাজান তিনি। এতে ছিল ৪টি চার ও ২টি ছক্কা। দীর্ঘদিন রান খরায় ভোগার পর এই ইনিংস তার আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনে এবং দলের জন্য টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়ায়।
শেষ দিকে জাকের আলি অনিক ৯ রান করে আউট হন, শেখ মেহেদী ফেরেন শূন্য রানে। তবে অপর প্রান্তে শামীম হোসেন ছিলেন ১৪ রানে অপরাজিত। আর জয়সূচক রান আসে নাসুম আহমেদের ব্যাট থেকে।
শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং বিশ্লেষণ
টস হেরে আগে ব্যাট করতে নামে শ্রীলঙ্কা। শুরুটা ভালো হলেও বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি তারা।
দাসুন শানাকা: দলের অধিনায়ক শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে খেলেন ৩৭ বলে ৬৪ রানের অসাধারণ ইনিংস। ইনিংসের শেষ দিকে তিনি একাই দলের রানের চাকা সচল রাখেন।
কুশল মেন্ডিস: ৩৪ রান করেন, তবে সেটিকে বড় ইনিংসে রূপ দিতে পারেননি।
নিশাঙ্কা ও আশালঙ্কা যথাক্রমে ২২ ও ২১ রান করেন।
বাংলাদেশের পক্ষে বল হাতে সবচেয়ে কার্যকর ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি চার ওভারে মাত্র ২০ রান দিয়ে তুলে নেন ৩টি উইকেট। এছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজ নেন ২ উইকেট এবং তাসকিন আহমেদ শিকার করেন ১টি।
ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট
বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত হয় মূলত তিনটি জায়গায়:
সাইফ হাসানের দুর্দান্ত ইনিংস – শুরুতেই চাপ সামলে দলের ভিত গড়ে দেন।
তাওহিদ হৃদয়ের ফর্মে ফেরা – গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ইনিংস গড়ে মধ্যভাগ সামলান।
শেষ ওভারে নাসুম আহমেদের ঠাণ্ডা মাথার ব্যাটিং – ভয়াবহ চাপের মধ্যেও সিঙ্গেলস তুলে দলকে জেতান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
শ্রীলঙ্কা: ১৬৮/৭ (২০ ওভার) শানাকা ৬৪*, মেন্ডিস ৩৪; মোস্তাফিজ ৩/২০, মেহেদী ২/২৫
বাংলাদেশ: ১৬৯/৬ (১৯.৫ ওভার) – সাইফ ৬১, হৃদয় ৫৮; শানাকা ২/২১, হাসারাঙ্গা ২/২২
ফলাফল: বাংলাদেশ জয়ী ৪ উইকেটে
ম্যাচসেরা: সাইফ হাসান (বাংলাদেশ)
ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়া
ম্যাচ শেষে টাইগার শিবিরে ছিল উল্লাসের ঢেউ। সাইফ হাসান জানালেন, “দল যখন আস্থা রেখেছে, তখন নিজের সেরাটা দেয়াই ছিল আমার লক্ষ্য। ম্যাচসেরা পুরস্কার আমার জন্য নয়, দলের জন্য।”
অন্যদিকে তাওহিদ হৃদয় বলেন, “অনেক দিন ধরে রান পাচ্ছিলাম না। এ ইনিংস আমাকে নতুন করে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে।”
শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক দাসুন শানাকা ম্যাচ হারের জন্য দায়ী করেন ব্যাটিংয়ের মাঝের ওভারে ধীরগতিকে এবং বাংলাদেশের বোলারদের শৃঙ্খলাপূর্ণ আক্রমণকে।
বিশ্লেষণ ও সামনে পথ
এই জয় বাংলাদেশের জন্য শুধু ২ পয়েন্ট নয়, বরং মানসিক দিক থেকেও বড় স্বস্তি। কারণ গ্রুপপর্বে হারের পর সমালোচনায় ছিল দল। তবে সুপার ফোরের শুরুতেই এমন জয় ভবিষ্যতের ম্যাচগুলোতে আত্মবিশ্বাস যোগাবে।
আগামী ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান ও ভারত দুই শক্তিশালী দল। সাইফ ও হৃদয়ের এমন ফর্ম বজায় থাকলে ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল টাইগারদের জন্য।
প্রকাশক ও সম্পাদক | মনিরুল ইসলাম রাজিব | মোবাইল: 01923355655
নির্বাহী সম্পাদক | মোঃ তামিম খান | মোবাইল: 01826668486
Copyright © www.apnarsongbad.com