ময়মনসিংহ প্রতিনিধি :
ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা এবং তার লাশে আগুন দেওয়ার ঘটনায় নতুন তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। পোশাক কারখানার ফ্লোর ম্যানেজার দিপু চন্দ্র দাসকে চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করার পর উত্তেজিত জনতার হাতে তুলে দেন—এই চাঞ্চল্যকর তথ্য র্যাব-১৪ এর পরিচালক নাইমুল হাসান শনিবার সাংবাদিকদের জানান।
পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস বিডি লিমিটেডের ফ্লোর ম্যানেজার আলমগীর হোসেন ও কোয়ালিটি ইনচার্জ মিরাজ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, ফ্লোর ম্যানেজার দিপুকে চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করে এবং নিরাপত্তা না দিয়ে জনতার হাতে তুলে দেয়। এই ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
র্যাব কর্মকর্তা জানান, উত্তেজিত জনতার পেছনে কোনও পূর্ব শত্রুতা বা অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা তদন্তের বিষয়। দিপুকে হত্যা করে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে পুড়িয়ে হত্যাকাণ্ড আইনত গ্রহণযোগ্য নয় এবং সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মামলাটি ভালুকা মডেল থানায় দায়ের করা হয়েছে এবং র্যাব ‘ছায়া-তদন্ত’ চালাচ্ছে। এ পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যারা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নয়।
১৮ ডিসেম্বর রাতে দিপুকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় এবং লাশে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ ছিল। পরবর্তীতে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠায়। দিপুর ছোট ভাই অপু চন্দ্র দাস বাদী হয়ে ১৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেছেন।
এই হত্যাকাণ্ড দেশের শ্রমিক শ্রেণির নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় সংবেদনশীলতার মধ্যে সংকটের প্রতিফলন। কাজের জায়গায় বৈষম্য ও অবহেলা সামাজিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে। শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো সম্ভব। দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্ত দেশের সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।
প্রকাশক ও সম্পাদক | মনিরুল ইসলাম রাজিব | মোবাইল: 01923355655
নির্বাহী সম্পাদক | মোঃ তামিম খান | মোবাইল: 01826668486
Copyright © www.apnarsongbad.com