নিজস্ব সংবাদদাতা, মানিকগঞ্জ :
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার কল্তা অভয়াচরণ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিভিন্ন সময়ে অবসরপ্রাপ্ত সাতজন প্রবীণ শিক্ষককে বিরল সম্মান জানালো বিদ্যালয়ের কার্য্যনির্বাহী পর্ষদ। ১৩ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে আয়োজিত দিনব্যাপী এসসিসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা, কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা স্মারক প্রদান ও বার্ষিক মিলাদ মাহফিলে বিশেষ অতিথি করে তাঁদের সম্মান জানায় বিদ্যালয়টির কার্য্যনির্বাহী পর্ষদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিতরা হলেন- অবসরপ্রাপ্ত সহকারি প্রধান শিক্ষক সুবোধ চন্দ্র সাহা এবং অবসারপ্রাপ্ত সহকারি শিক্ষক হরেন্দ্র কুমার সরকার, মোঃ রজব আলী, মোঃ মোজাফ্ফর আলী শিকদার, মতিলাল সরকার, সুভাষ চন্দ্র মন্ডল, সুশীল কুমার ভট্টাচার্য্য ও শচীন্দ্র কুমার সরকার। আমন্ত্রিতদের মধ্যে মোঃ মোজাফ্ফর আলীছাড়া সবাই উপস্থিত ছিলেন। অতিথি হিসেবে সম্মান জানানোর পাশাপাশি তাঁদেরকে দেওয়া হয় সম্মাননা ক্রেস্ট।
বিদ্যালয় কার্য্যনির্বাহী পর্ষদের সভাপতি এবং নিজাম আলী খান ও জাহানারা বেগম ট্রাস্টের সভাপতি মঞ্জুর আলম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আমীর হোসেন এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শামীম খান।
যে বিদ্যালয়ে জীবনের একটি বড় সময় ধরে শিক্ষকতা করে অবসর গ্রহণ করেছেন, সেই বিদ্যালয়ের একটি বড় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের সামনে আসার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকগণ।
অনুষ্ঠানের বিশাল ব্যানারে বিশেষ অতিথিদের তালিকায় বিদ্যালয়টির অবসরপ্রাপ্ত এই সাতজন শিক্ষক ছাড়া আর কারও নাম ছিল না। তাঁদের বাইরে নাম ছিল শুধমাত্র জেলা শিক্ষা অফিসার, বিদ্যালয় কার্য্যনির্বাহী পর্ষদের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের নাম।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বলেন, ‘বিদ্যালয়টির অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের এভাবে আমন্ত্রণ জানিয়ে এবং সম্মাননা ক্রেস্ট দিয়ে সম্মান জানিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উন্নত মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। অন্য বিদ্যালয়গুলির জন্য এটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’
অবসারপ্রাপ্ত সহকারি শিক্ষক হরেন্দ্র কুমার সরকার বলেন, ‘আমাদের বয়স হয়ে গেছে। এখন পরপারের পাথেয় সংগ্রহ করতে হবে। তবে, দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার আগে এমন সম্মান পাবো ভাবিনি। আমি আবেগাপ্লুত। কৃতজ্ঞতা জানোর ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। তোমাদের জন্য দোয়া করি। আরও বড় হও।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শামীম খান বলেন, ’এই বিদ্যালয়ের কার্য্যনির্বাহী পর্ষদের সভাপতি মঞ্জুর রহমান নিজের টাকা খরচ করে বছরব্যাপী বিদ্যালয়ের যাবতীয় উন্নয়নমূলক কাজ, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার প্রদান, বার্ষিক মিলাদ মাহফিল, বিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তাসহ সম্মাননা স্মারক প্রদান ইত্যাদি অনুষ্ঠান করে থাকে। তাঁর পিতা-মাতার নামে করা ‘নিজাম আলী খান ও জাহানারা বেগম ট্রাস্টের নামে সবসময় নানাধরণের সহযোগিতা করে থাকেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে বার্ষিক ক্রীড়া ও বার্ষিক মিলাদের কোন চাঁদা নেওয়া হয় না। তিনি এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। তাঁর প্রস্তাবেই বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অতিথি করা হয়েছে।’
বিদ্যালয় কার্য্যনির্বাহী পর্ষদের সভাপতি এবং নিজাম আলী খান ও জাহানারা বেগম ট্রাস্টের সভাপতি মঞ্জুর আলম খান বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয় থেকে পাশ করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা মেডিক্যাল কলেজ ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সম্মাননা স্মারকের পাশাপাশি আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হয়। এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী ছাড়াও প্রতি শ্রেণীতে বার্ষিক পরীক্ষায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদেরও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এ জাতীয় কোন অনুষ্ঠানেই বিদ্যালয়ের টাকা খরচ করা হয় না। আমরা ব্যক্তিগতভাবে সকল ব্যয় বহন করি।’
প্রকাশক ও সম্পাদক | মনিরুল ইসলাম রাজিব | মোবাইল: 01923355655
নির্বাহী সম্পাদক | মোঃ তামিম খান | মোবাইল: 01826668486
Copyright © www.apnarsongbad.com