ডেস্ক রিপোর্ট :
গত দুই দিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জায়গায়। কয়েকদিনের তাপদাহের পর বৃষ্টি স্বস্তি নিয়ে এসেছিল। তবে আজ ঈদের দিন তা যেন রূপ নিয়েছে ভোগান্তিতে। গতকাল থেকে টানা ভারী বৃষ্টির কারণে ঈদের নামাজে বিঘ্ন ঘটেছে। অনেক ঈদগাহে নামাজ হয়নি। মসজিদে নামাজ পড়তে হয়েছে। অন্যদিকে নামাজের পর আরেক ভোগান্তি পশু কোরবানি করায়। শহরে রাস্তায় কোরবানি দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক রাস্তায় টানা বৃষ্টিতে পানি জমে যাওয়ার কারণে কোরবানি দিতে দেরি হচ্ছে। অন্যদিকে গ্রামে অনেকের বাড়ির উঠানে রাস্তায় পানি উঠায় কোরবানি দিতে পারেননি এখনও। আবহাওয়া বিভাগ বলছে, সহসাই এই বৃষ্টি থামছে না।
আবহাওয়া বিভাগ আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জুন) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানিয়েছে, দেশের আট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উত্তরপূর্ব মধ্য প্রদেশ ও এর আশপাশের এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে লঘুচাপ হিসেবে একই এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষ পাঞ্জাব-হরিয়ানা-উত্তর প্রদেশ এবং লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল বিহার-পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।
মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাবে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।
সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজর ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে কুমিল্লায় ১৫৯ মিলিমিটার। এছাড়া ঢাকায় ১১৫, টাঙ্গাইলে ১৪, ফরিদপুরে ৫৫, মাদারিপুরে ৭, গোপালগঞ্জ ৬৭, নিকলিতে ৩১, রাজশাহীতে ২, বগুড়ায় ২১, বদলগাছিতে ৮, তাড়াশে ৩, রংপুরে ১, দিনাজপুরে ৩৯, তেঁতুলিয়ায় ৫৩, ডিমলায় ২৪, রাজারহাটে ৫৫, ময়মনসিংহে ৪২, নেত্রকোণায় ১০২, সিলেটে ৫৩, সন্দ্বীপে ৩, রাঙামাটিতে ৪, চাঁদপুর ১৭, মাইজদী কোর্টে ৩, ফেনীতে ৩, হাতিয়ায় ১, টেকনাফে ৮, খুলনায় ১০৩, মোংলায় ৪০, সাতক্ষীরায় ৩৯, যশোরে ৭২, চুয়াডাঙ্গায় ৮, কুমারখালিতে ৩৪, বরিশালে ১৯, ভোলায় ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া কক্সবাজারে সামান্য বৃষ্টি হয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক | মনিরুল ইসলাম রাজিব | মোবাইল: 01923355655
নির্বাহী সম্পাদক | মোঃ তামিম খান | মোবাইল: 01826668486
Copyright © www.apnarsongbad.com