ডেস্ক রিপোর্ট :
ফাঁসির আদেশ কার্যকর করার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে প্রাণভিক্ষা পাওয়া কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বেগমাবাদ গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা রাখাল চন্দ্র নাহা অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন। রোববার (২ জুলাই) দুপুরে কুমিল্লা কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।
জানা গেছে, ২০০৮ সালের ৭ এপ্রিল মধ্যরাতে জেলার দেবিদ্বারের একটি হত্যা মামলায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধা রাখাল চন্দ্র নাহার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত হয়। এ বিষয়ে ৩ এপ্রিল কর্তৃপক্ষর চিঠিটি পায় তার পরিবার। ৬ এপ্রিল ‘আজ একজন মুক্তিযোদ্ধার ফাঁসি’ শিরোনামে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশের পর তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ওই সময় তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদের অনুরোধে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রাখালের ফাঁসির দণ্ড মওকুফ হলে পরবর্তীতে তাকে যাবজ্জীবন সাজা দেয়া হয়।
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা রাখাল চন্দ্র নাহা অবশেষে রোববার (২ জুলাই) বিকালে কুমিল্লা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। কারাগার সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ফাঁসির দণ্ডাদেশ রহিত হবার পর তিনি সাজা ভোগ করেন ২৪ বছর ৭ মাস। কারাগারে ভালো ব্যবহারের কারণে ৪ বছর ৭ মাস সাজা মওকুফ হয়েছে।
কারাগার ও মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দেবিদ্বার উপজেলার হোসেনপুর গ্রামে ১৯৯৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেশী দীনেশ চন্দ্র দত্তকে হত্যার অভিযোগে রাখাল চন্দ্র নাহা ও তার ভাই নেপাল চন্দ্র নাহার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করে নিহতের ছেলে নিখিল চন্দ্র। হত্যা মামলা দায়ের করার পর ওইদিন সন্ধ্যায় দেবিদ্বার থানা পুলিশ স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রাখাল চন্দ্র নাহাকে গ্রেপ্তার করে। নেপাল চন্দ্র নাহা পলাতক অবস্থায় মারা যান। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ রাখাল চন্দ্র ও তার ভাই নেপাল চন্দ্রের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করলে ২০০৩ সালের ২০ জানুয়ারি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (প্রথম আদালত) খান আবদুল মান্নান অভিযুক্ত মুক্তিযোদ্ধা রাখাল চন্দ্রের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় প্রদান করেন।
এরপর সকল আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০০৮ সালের ৭ এপ্রিল মধ্যরাতে রাখাল চন্দ্র নাহার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত হয়। এ বিষয়ে ৩ এপ্রিল কর্তৃপক্ষের চিঠিটি পায় তার পরিবার। পরের দিন আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সংগঠনের পক্ষ থেকে দেবিদ্বারে এবং ৫ এপ্রিল জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে এ মুক্তিযোদ্ধার ফাঁসির দণ্ড রহিত করার জন্য দাবি জানান। এ আন্দোলনে যোগ দেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীও। পরের দিন বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ‘মুক্তিযোদ্ধার ফাঁসি কাল’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদের দৃষ্টিগোচর হয়। তিনি মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে এ মুক্তিযোদ্ধার ফাঁসির দণ্ড মওকুফ করার জন্য অনুরোধ করেন। ফাঁসি সম্পন্ন হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে রাষ্ট্রপতি তা রহিত করেন। তার ফাঁসির দণ্ড মওকুফ করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।
কুমিল্লা কারাগারের সিনিয়র সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, কারাগারে রাখাল চন্দ্র নাহার ব্যবহার ছিল চমৎকার, তাই কারা বিধি অনুসারে সরকার ৪ বছর ৭ মাস সাজা মওকুফ করায় রোববার তিনি মুক্তি লাভ করেছেন।
কুমিল্লা কারাগার থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা রাখাল চন্দ্র নাহাকে ফুলেল শুভেচ্ছায় অভ্যর্থনা জানান আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির চেয়ারম্যান, কুমিল্লা জেলা সভাপতি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান তরিকুর রহমান জুয়েল, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নয়ন, প্রচার সম্পাদক শাহপরান সিদ্দিকী তারেকসহ আরও অনেকে।
ফাঁসির কয়েক ঘণ্টা আগে প্রাণভিক্ষা পাওয়া রাখাল মুক্ত আলোবাতাসে
ফাঁসির কয়েক ঘণ্টা আগে প্রাণভিক্ষা পাওয়া রাখাল মুক্ত আলোবাতাসে
রাখাল চন্দ্র নাহা
ফাঁসির আদেশ কার্যকর করার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে প্রাণভিক্ষা পাওয়া কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বেগমাবাদ গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা রাখাল চন্দ্র নাহা অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন। রোববার (২ জুলাই) দুপুরে কুমিল্লা কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।
জানা গেছে, ২০০৮ সালের ৭ এপ্রিল মধ্যরাতে জেলার দেবিদ্বারের একটি হত্যা মামলায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধা রাখাল চন্দ্র নাহার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত হয়। এ বিষয়ে ৩ এপ্রিল কর্তৃপক্ষর চিঠিটি পায় তার পরিবার। ৬ এপ্রিল ‘আজ একজন মুক্তিযোদ্ধার ফাঁসি’ শিরোনামে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশের পর তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ওই সময় তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদের অনুরোধে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রাখালের ফাঁসির দণ্ড মওকুফ হলে পরবর্তীতে তাকে যাবজ্জীবন সাজা দেয়া হয়।
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা রাখাল চন্দ্র নাহা অবশেষে রোববার (২ জুলাই) বিকালে কুমিল্লা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। কারাগার সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ফাঁসির দণ্ডাদেশ রহিত হবার পর তিনি সাজা ভোগ করেন ২৪ বছর ৭ মাস। কারাগারে ভালো ব্যবহারের কারণে ৪ বছর ৭ মাস সাজা মওকুফ হয়েছে।
কারাগার ও মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দেবিদ্বার উপজেলার হোসেনপুর গ্রামে ১৯৯৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেশী দীনেশ চন্দ্র দত্তকে হত্যার অভিযোগে রাখাল চন্দ্র নাহা ও তার ভাই নেপাল চন্দ্র নাহার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করে নিহতের ছেলে নিখিল চন্দ্র। হত্যা মামলা দায়ের করার পর ওইদিন সন্ধ্যায় দেবিদ্বার থানা পুলিশ স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রাখাল চন্দ্র নাহাকে গ্রেপ্তার করে। নেপাল চন্দ্র নাহা পলাতক অবস্থায় মারা যান। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ রাখাল চন্দ্র ও তার ভাই নেপাল চন্দ্রের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করলে ২০০৩ সালের ২০ জানুয়ারি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (প্রথম আদালত) খান আবদুল মান্নান অভিযুক্ত মুক্তিযোদ্ধা রাখাল চন্দ্রের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় প্রদান করেন।
এরপর সকল আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০০৮ সালের ৭ এপ্রিল মধ্যরাতে রাখাল চন্দ্র নাহার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত হয়। এ বিষয়ে ৩ এপ্রিল কর্তৃপক্ষের চিঠিটি পায় তার পরিবার। পরের দিন আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সংগঠনের পক্ষ থেকে দেবিদ্বারে এবং ৫ এপ্রিল জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে এ মুক্তিযোদ্ধার ফাঁসির দণ্ড রহিত করার জন্য দাবি জানান। এ আন্দোলনে যোগ দেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীও। পরের দিন বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ‘মুক্তিযোদ্ধার ফাঁসি কাল’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদের দৃষ্টিগোচর হয়। তিনি মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে এ মুক্তিযোদ্ধার ফাঁসির দণ্ড মওকুফ করার জন্য অনুরোধ করেন। ফাঁসি সম্পন্ন হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে রাষ্ট্রপতি তা রহিত করেন। তার ফাঁসির দণ্ড মওকুফ করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।
কুমিল্লা কারাগারের সিনিয়র সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, কারাগারে রাখাল চন্দ্র নাহার ব্যবহার ছিল চমৎকার, তাই কারা বিধি অনুসারে সরকার ৪ বছর ৭ মাস সাজা মওকুফ করায় রোববার তিনি মুক্তি লাভ করেছেন।
আরও পড়ুন: বেনাপোল দিয়ে দেশে ঢুকলো ৪৫ মেট্রিক টন কাঁচা মরিচ
কুমিল্লা কারাগার থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা রাখাল চন্দ্র নাহাকে ফুলেল শুভেচ্ছায় অভ্যর্থনা জানান আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির চেয়ারম্যান, কুমিল্লা জেলা সভাপতি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান তরিকুর রহমান জুয়েল, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নয়ন, প্রচার সম্পাদক শাহপরান সিদ্দিকী তারেকসহ আরও অনেকে।
মুক্তিপ্রাপ্ত রাখাল চন্দ্র নাহা বলেন, ফাঁসি নিশ্চিত জেনে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলাম। সরকার, সাংবাদিক সমাজ, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর চেষ্টায় আমার ফাঁসি রহিত হয়, আমি নব জীবন লাভ করি। একজন মুক্তিযোদ্ধার জন্য মানুষের ভালবাসা দেখে আমি এইটাই বুঝেছি যে, ৭১-এ যুদ্ধে গিয়ে ভুল করিনি।
আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কেন্দ্রীয় সভাপতি আলহাজ হুমায়ুন কবির বলেন, স্বাধীন দেশে একজন নিরপরাধ মুক্তিযোদ্ধার ফাঁসি মেনে নিতে পারিনি বলেই আমরা আন্দোলনে নেমেছিলাম। আজ সেই আন্দোলন পূর্ণতা পেল। আমরা এখন বীর মুক্তিযোদ্ধা রাখাল চন্দ্র নাহার সুচিকিৎসা এবং পুনর্বাসন চাই। রাখাল চন্দ্রের ছেলে সঞ্জয় চন্দ্র নাহা বলেন, বাবার জন্য আইনি লড়াই করতে গিয়ে আমাদের পরিবার নিঃস্ব। সরকার সহায়তা দিলে বাবার চিকিৎসা চালাতে পারবো।
প্রকাশক ও সম্পাদক | মনিরুল ইসলাম রাজিব | মোবাইল: 01923355655
নির্বাহী সম্পাদক | মোঃ তামিম খান | মোবাইল: 01826668486
Copyright © www.apnarsongbad.com