গাজীপুর প্রতিনিধি : প্রেমিকা নিয়ে বিরোধের জেরে গাজীপুর মহানগরীর দক্ষিণ ছায়াবিথী এলাকার ফনিরটেকে কিশোর গ্যাং গ্রুপের এর হাতে নির্মমভাবে সিয়াম হত্যার জট খুলেছেন জিএমপি সদর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করেছে ৬ কিশোরকে। ৭মে রবিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার অপরাধ (উত্তর বিভাগ) গত ২৭ এপ্রিল ২৩ইং তারিখে বেলা অনুমান ১২.৩০ ঘটিকায় সদর থানাধীন দক্ষিণ ছায়াবিথী এলাকার ফণিরটেকের নিরিবিলি মাঠের পূর্ব পাশে ধানক্ষেত থেকে ১৮-২০ বছরের অজ্ঞাত লাশ দেখে পুলিশে খবর দেয় এলাকাবাসী। সংবাদ পেয়ে সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করেন।
লাশের হাত, পা, গলা, মুখ কাপড় দিয়ে বাঁধা এবং মুখমণ্ডল সহ লাশের সারা শরীরে কাটা ও রক্তাতের জন্য লাশের পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। পরে পুলিশ পরিচয় উদ্ঘাটনের জন্য ঘটনা স্থলে উপস্থিত লোকজন সহ আশেপাশের লোকজনদের পুলিশ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং লাশের পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি সদর থানাধীন ছোট দেওড়া এলাকার মোঃ সফিকুল ইসলাম এর ছোট ছেলে মোঃ সিয়াম (২০) । এবিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন সদর থানায় মামলা নং ৩৯, তাং ২৮/০৪/২০১৩ ইং, ধারা- ৩০২/৩৪ পেনাল কোড রুজু হয়।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার অপরাধ (উত্তর) আবু তোরাব মোঃ শামসুর রহমান এর নির্দেশনায় অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার অপরাধ (উত্তর) রেজওয়ান আহমেদ এর নেতৃত্বে সদর মেট্রো থানা এসআই মোঃ মনিরুজ্জামানের একটি টিম তথ্য প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন দিক নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে ঘটনার ৭২ ঘন্টার মধ্যে ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেন জিএমপি পুলিশ। এবং হত্যায় জড়িত থাকা সদর থানাধীন দক্ষিণ ছায়াবিথী এলাকা থেকে শ্রী অজয় কুমারের ছেলে অর্পন সরকার জয় কে ২৯ এপ্রিল গ্রেফতার করেন জিএমপি সদর থানা পুলিশ ।
পুলিশ জানায় গ্রেফতারকৃত অর্পনকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, আফিফা (ছদ্মনাম) একটি মেয়ের সাথে ঘটনার প্রধান পরিপকল্পানাকারী এবং হত্যার সাথে জড়িত পলাতক আসামী মোঃ আরাফাত (২০) এর দীর্ঘদিন যাবৎ প্রেমের সম্পর্ক ছিল। হত্যার ঘটনার ৫দিন আগে আফিফা (ছদ্মনাম) এর আত্মীয়ের বাড়ী সদর থানাধীন ছোট দেওড়া এলাকায় তার বান্ধবীদের সাথে ঘুরতে যায় এবং নিহত সিয়ামের সাথে তার পরিচয় হয়।
পরিচয় হলে তারা নিজেদের মধ্যে ফেসবুক আইডি বিনিময় করে এবং ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে চ্যাটিং করতে থাকেন দুজনে । অন্যদিকে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী আফিফা (ছদ্মনাম) এর প্রেমিক আরাফাত তার প্রেমিকার ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার আইডি তার মোবাইলে লগইন করে রাখে এতে করে প্রেমিকা আফিফা (ছদ্মনাম) ম্যাসেঞ্জার আইডি দ্বারা যাদের কথোপকথন বা চ্যাট করতো তার বিস্তারিত আরাফাত এর নিজের মোবাইলে দেখতে পেত। এতে আসামী আরাফাত এর চরম ক্ষোভ / আক্রোশ জমতে থাকে এবং পরিকল্পনা করে সিয়ামকে মেরে ফেলার।
তারই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৭:৩০ ঘটিকার সময় নিহত সিয়ামকে কৌশলে আফিফা (ছদ্মনাম) এর ম্যাসেঞ্জার আইডি থেকে আরাফাত নিজেই তার পরিচয় গোপন করে আফিফা (ছদ্মনাম) সেজে নিহত সিয়াম এর সাথে চ্যাট করে এবং ঘটনাস্থলে এসে তার সাথে দেখা করতে বলে। সদ্য পরিচয় এবং নিজের ভাললাগা থেকে নিহত সিয়াম কে দেখা করার জন্য আসতে বললে সিয়াম ঘটনাস্থলে আসে। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নেয় হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী পলাতক আরাফাত (২০) সহ আরো ১০/১৫ জনের একটি গ্রুপ (তদন্তের স্বার্থে যাদের নাম পরিচয় আপতত প্রকাশ করা গেল না)। আরাফাত এর নির্দেশে ১০/১৫ জনের সদস্যরা তার হাত পা বেধে এলোপাতাড়ি ভাবে চাপাতি, সুইচ গিয়ার চাকু ও জেন দিয়ে কোপাতে থাকে।
পরে আসামীরা সিয়াম এর মৃত্যু নিশ্চিত হলে যে যার মত ঘটনা স্থল থেকে চলে যায়। পুলিশ বলেন ঘটনার সংবাদ পাওয়ার ঘটনাস্থলে গেলে সেখানে হত্যাকারীরাও উপস্থিত উৎসুক জনতার সাথে মিশে পুলিশের সকল কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে। পুলিশ প্রথমে অর্পন সরকার জয় (১৬) কে গত ২৯-০৪-২০২৩ তারিখ সদর থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে এবং উক্ত আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করে ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করে ফৌ: কা: ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
জয়ের জবানবন্দি অনুযায়ী আসামী ১। মোঃ সাজ্জাদ হোসেন (সাজিদ) (১৫), ২। মোঃ হাসিবুর রহমান টুটুল (২১), ৩। রিয়াদ হোসেন মুন্না (১৮) কে ৩০-০৪-২০২৩ তারিখ দক্ষিণ ছায়াবিধী এলাকা থেকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয় এবং ৪। মোঃ শাকিল (১৯), ৫। মোঃ রাকিব ( ২২ ) দ্বয়কে বাঙ্গালগাছ এলাকা থেকে ৬ মে ২৩ইং গ্রেফতার করা হয়। এছাড়াও ঘটনাটি যাকে কেন্দ্র করে ঘটেছে সেই প্রেমিকা আফিফা (ছদ্মনাম) ফৌঃ কাঃ ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বাক্ষী হিসাবে বিজ্ঞ আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং অপর পলাতক আসামীদের গ্রেফতারে জোর চেষ্টা অব্যাহত আছে।
গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলেন শ্রী অজয় কুমারের ছেলে অর্পণ সরকার জয় (১৬), হাসান জামানের ছেলে মো: সাজ্জাদ হোসেন (২) সাজিদ (১৫), উভয়ে গাজীপুর মহানগর সদর থানার মানববাড়ি ও দক্ষিণ ছায়াবিথী এলাকার, জামালপুর সদর থানার কেন্দুয়া কালিবাড়ির মোশাররফ হোসেনের ছেলে মোঃ হাসিবুর রহমান টুটুল (২১) বর্তমান দক্ষিণ ছায়াবিথী এলাকায় বাদলের বাড়ির ভাড়াটিয়া, গাজীপুর মহানগর সদর থানা দক্ষিণ ছায়াবিথীর ফনিরটেক এলাকার মোস্তফা কামালের ছেলে মোঃ রিয়াদ হোসেন মুন্না (১৮), জামালপুর জেরার মেলান্দহ থানার ব্রাক্ষ্মনপাড়ার মোঃ সাইফুল ইসলামের ছেলে মোঃ শাকিল (১৯), সে গাজীপুর মহানগরীর সদর থানা দক্ষিণ ছায়াবিথী এলাকার ভাড়াটিয়া, এবং গাজীপুর মহানগর সদর থানাধীন বাঙালগাছ এলাকার মোঃ ইউনুস আলীর ছেলে মোঃ রাকিব (২২)।
প্রকাশক ও সম্পাদক | মনিরুল ইসলাম রাজিব | মোবাইল: 01923355655
নির্বাহী সম্পাদক | মোঃ তামিম খান | মোবাইল: 01826668486
Copyright © www.apnarsongbad.com