দেহের দাবী: আমার একজন সৃষ্টিকর্তা আছে
আমরা আজ এমন এক অবস্থানে এসে উপনীত হয়েছি যে সবকিছুতে প্রমাণ চাই। যাহা নিজ চোখে দেখি শুধু তাহাই বিশ্বাস করি; যাহা দেখিনা বা অনুমেয় তার থেকে দূরে থাকি। আবার আরেক গ্রুপ আছে জ্ঞানী, পরিচিত কিংবা আপন মানুষ বললে বিশ্বাস হয় না; সেলিব্রেটিরা মিথ্যা বল্লেও নির্দ্বিধায় বিশ্বাস করি। আচ্ছা বলেনতো বায়ু তথা বাতাসে তো অনেক গ্যাস আছে তাহলে নিঃশ্বাসের সময় অন্য এত সংখ্যক গ্যাস নেই কিন্তু অক্সিজেন আমাদের অভ্যন্তরে যেয়ে ফুসফুসের মাধ্যমে রক্তে পৌঁছে আমাদের বাঁচিয়ে রাখে যদিও প্রকৃতিতে নাইট্রোজেন এর পরিমাণ বেশি (৭৮ ভাগ)। কী অবিশ্বাস্য !! যদি কেউ বাঁচিয়ে রাখতো তাহলে তা তো হওয়ার কথা ছিল নাইট্রোজেন। নাইট্রোজেনের পরিমাণ কমে গেলে বেশি পরিমাণ অক্সিজেন আপনার শারীরিক সমস্যার তৈরি করবে আর বেড়ে গেলে অক্সিজেনের স্বল্পতার জন্য মাথা ঘুরবে। মানে শ্বসনের জন্য নাক দিয়ে টেনে নেয়া মোট বাতাসের ২০% অক্সিজেন থাকলে সেটা আমাদের জন্য উপযোগী। অক্সিজেন দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে বিভিন্ন বিপাকীয় কাজ সম্পন্ন করে কার্বন ডাই অক্সাইড কে দেহের সিষ্টেম ঠেলে বের করে দিচ্ছ। নাইট্রোজেন-বিযুক্ত একটু বেশি অক্সিজেন প্রচণ্ডভাবে পরিপাক বা বিপাক প্রক্রিয়া বাড়িয়ে ফেলবে যা পরিনামে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে। আবার দেখেন পৃথিবীর সবকিছুর উপর ই অভিকর্ষের প্রভাব আছে যার ফলে কোন কিছু উপরে নিক্ষেপ করলে ভূমিতে ফিরে আসে। দেখেনতো বায়ুর উপর অভিকর্ষের প্রভাব থাকলে কী হতো! সব অক্সিজেনের কণাগুলো ধপাধপ নীচে পড়ে যেত। আর আমাদের হয় সরিসৃপ বা সাপ এর মতো প্রাণী হতে হতো অক্সিজেনের কণা খোঁজে খাওয়ার জন্য। শুধু কী তাই চোখের Power কী রকম হতে তো যাতে গ্যাসের কণাগুলো দেখা যায়, এমনকী গ্যাসের কণাগুলো বিভিন্ন রং এর না হলে কোনটা অক্সিজেন কোনটা কার্বনডাই অক্সাইড বুঝা যেত না!! কী এক জীবন হতে পারতো আমাদের!!
আমরা সবাই জানি বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে অক্সিজেন আমাদের দেহকে সচল রাখে। যদিও অক্সিজেন দেখিনা কিন্তু আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস অক্সিজেন ই আমাদের বাঁচিয়ে রাখে!! অথচ কী সুনিপুণ কারিশমায় এমন ভারসাম্যপূর্ণ অদৃশ্য বায়বীয় ব্যবস্থা কে দিয়েছেন? এ ব্যবস্থার সৃষ্টিকর্তা কে তাকে বিশ্বাস করতে মন চায় না। হাসপাতালে মৃত্যু পথযাত্রী রোগীর অক্সিজেনের প্রতি আকুল আকুতি দেখলে বুঝা যায় ইচ্ছে করলেই সবাই অক্সিজেন নিতে পারে না। দুই নাকের ছিদ্র ই মহান আল্লাহ সুবহানু তা'আলার অস্তিত্ত্বের সাক্ষী দিচ্ছে তা দেখা যাক বা না যাক।
আচ্ছা এবার আসুন ছোট একটা দৃশ্যমান বিষয়ের দিকে দৃষ্টি দেয়া যাক। আমরা এখন জানি, সৃষ্টিকর্তার অপার বিষ্ময় DNA ছাড়া যে কোন জীবের অস্তিত্ব অসম্ভব।DNA ( Deoxyribo Nucleic Acid) , জীবের বিকাশ বা বৃদ্ধি বা বেঁচে থাকার এবং পুনরুৎপাদনের (Reproduction) এর জন্য যাবতীয় তথ্য বা নির্দেশনাবলী বহন করে। DNA এর মধ্যে রয়েছে মোট ৬৪ টি কোডন বা জেনেটিক কোড। জেনেটিক কোড হচ্ছে একটি সেট যা তিন অক্ষরের নিউক্লিওটাইডের ক্রম (যাকে কোডন বলা হয়) দ্বারা তৈরি এবং কোডন তৈরী হয় চারটি নাইট্রোজেনাস বেইস বা ক্ষারের (A,U,G এবং C ) সমন্বয়ে গঠিত নিউক্লিওটাইড দ্বারা । আর একেকটি কোডনকে একেকটি নিউক্লিওটাইড ট্রিপলেট ও বলা হয়। প্রত্যেকটি কোডন পৃথক পৃথকভাবে একেকটি অ্যামাইনো এসিড কে (যা প্রোটিনের গাঠনিক উপাদান) নির্দেশ করে। ঠিক একইভাবে কম্পিউটার বাইনারি ডিজিট (0,1) দ্বারা যাবতীয় কোড তৈরী করে থাকে যেমন ইংরেজী শব্দ 'DAD' কে বাইনারি আকারে (ASCII binary code ) লিখলে দাঁড়ায় 010001000110000101100100। A,U,G এবং C এই চারটি কোডন দ্বারা গঠিত একটি sequence দেখা যাক যা প্রোটিনের উপাদান তিনটি অ্যামাইনো এসিডকে নির্দেশ করে (CAGAAGCCA = glutamine-lysine-proline) এভবে DNA দ্বারা নির্দেশিত তথ্য ভান্ডারের সাইজ কত তা বুঝা যায় ২০১৩ সালে বিখ্যাত জার্নাল 'The nature' এ প্রকাশিত তথ্য থেকে: “DNA Data Storage: 100 Million Hours of HD Video in Every Cup'' অর্থাৎ DNA ডেটা স্টোরেজ: প্রতি কাপে 100 মিলিয়ন ঘন্টা HD ভিডিও।
তথ্যের সেই পরিমাণ হবে প্রায় এক জেটাবাইট—আশ্চর্যজনক হলেও সত্য আর তা হলো এক জেটাবাইট = এক মিলিয়ন মিলিয়ন গিগাবাইট! প্রকৃতপক্ষে, তারা দাবি করে যে একটি স্ট্যান্ডার্ড কফির কাপে যে পরিমাণ ডিএনএ ফিট হবে তা 100 মিলিয়ন ঘন্টা High-Definition ভিডিও সংরক্ষণ করার জন্য যথেষ্ট। এটি 10,000 বছরেরও বেশি সময় ধরে একটানা-প্রতিদিন ২৪ ঘন্টা চালানোর জন্য যথেষ্ট হাই-ডেফিনিশন ভিডিও এবং 10,000 বছর ধরে অবিরাম চালানো ভিডিওর হিসাবটি মাত্র এক কফি কাপের হিসেব। চিন্তা করুন কী নিয়ে বয়ে বেড়াচ্ছেন। সুবহানাল্লাহ।
আসুন এবার মস্তিষ্কের নিউরন তথা নার্ভ কোষের দিকে একটু দৃষ্টি দেই। মানুষের মস্তিষ্কে 1000000000000 কোষ (এক ট্রিলিয়ন) এরও বেশি কোষ রয়েছে, এগুলি সবই একে অপরের সাথে সম্পর্কিত এবং কোনও ত্রুটি ছাড়াই একসাথে কাজ করে। মস্তিষ্কে নার্ভ ফাইবার নেটওয়ার্কের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় 500,000 কিমি, পৃথিবী এবং চাঁদের দূরত্বের (384, 000 কিমি) চেয়েও বেশি। নার্ভ ফাইবারগুলির তথ্য আদান প্রদান একটি নেভিগেশন সিস্টেম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় যাতে ভুল হার্ডওয়্যারিং বা ত্রুটি প্রতিরোধ করতে পারে। কী অসাধারণ কারুকাজ! এক গুচ্ছ সুতোর মধ্যে সামান্য একটা প্যাঁচ লাগলে বুঝা যায়, প্যাঁচ খোলা কী জিনিস!! আর আমরা কোটি কোটি প্যাঁচ বহন করে বেড়াচ্ছি শূণ্যতম ত্রুটি ছাড়া (সুবহানাল্লাহ)
আসুন এবার অন্য কিছু দেখি। আরবী প্রত্যেকটা অক্ষরের নিজস্ব একটা মান আছে যাদের আবজাদ মান বলা হয়। যেমন আলিফের মান 1, বা এর মান 2, নুন এর মান 50 প্রভৃতি। সেই হিসেবে DNA কোড দ্বারা তৈরি মানুষের আরবী শব্দ إنسان DNA কী তথ্য ধারণ করতেছে তা যেন বলে দিতেছে। ইনসান (ا =1, ن=50, س = 60, ن=50, ا=1) এর মোট আবজাদ মান (1+50+60+50+1) 162 যা আশ্চর্যজনকভাবে 99 (আল্লাহর গুণবাচক নাম) এবং 63 (শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর জীবনী) এর যোগফল। অর্থাৎ 162 = 99 + 63, সুবহানাল্লাহ শুধু ইনসান নামের মধ্যেই আল্লাহ সুবহানুতা'আলা কী নিগূঢ় তথ্য লুকিয়ে রেখেছেন। কাজেই আমাদের নবীজির ৬৩ বৎসরের দেখানো পথে চলা আর আল্লাহর গুণবাচক গুণে গুণান্বিত হওয়ার মানেই হচ্ছে মনুষ।
আর ইসলাম যে মহান সৃষ্টিকর্তার একমাত্র পথ তাও ইসলাম إسلام শব্দের আবজাদ মানে বিদ্যমান। আল্লাহ (ا=1, ل=30, ل=30, ە=5) শব্দের আবজাদ মান হচ্ছে 66 (1+30+30+5)। ইসলাম إسلام শব্দের (ا=1, س=60, ا=1, ل=30, م=40) মোট আবজাদ মান 132 (1+60+1+30+40)। আর দেখেন 132 কে আমরা কিভবে লিখতে পারি: 132=66+66 । দুইটি 66 মিলে 132, যা স্পষ্টত: মহান সৃষ্টিকর্তার একমাত্র মনোনীত ধর্ম যে ইসলাম, তারই প্রকাশ; আর সূরা মায়িদার ৩নং আয়াতও যেন একই কথা বলছে (সুবহানাল্লাহ):
'আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পূর্ণাঙ্গ করলাম, তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।'
দৃশ্যমান হোক বা অদৃশ্য হোক; প্রকৃতি থেকে শুরু অণু পরমাণু সবই এক মহান সৃষ্টিকর্তার মহিমা ও সার্বোভৌমত্ব ঘোষণা করছে নঃসন্দেহে। এই সত্য জেনেও যারা অস্বীকার করে তাদের মতো হতোভাগা আর কে আছে! একশো ট্রিলিয়ন কম্পিউটার যেমন একশো ট্রিলিয়ন হার্ড ড্রাইভ পড়ছে, ঠিক দেহের প্রতিটি কোষ একেকটি কম্পিউটার এর ন্যায় ক্রোমোজমে বিদ্যমান জিনের DNAএর কোড তথা প্রোগ্রামগুলো পড়ছে। আমাদের জীবনের প্রতিটি দিনের প্রতি সেকেন্ডে-আমাদের দেহই দাবি করে যে আমরা একজন সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস করি।
মো: আরিফ মাহমুদ হাওলাদার
PhD Fellow, ideSHi
Ex-Research Officer, icddr,b
Ex-Scientific Officer, BTRI
Founding Director, The Scholars' College
প্রকাশক ও সম্পাদক | মনিরুল ইসলাম রাজিব | মোবাইল: 01923355655
নির্বাহী সম্পাদক | মোঃ তামিম খান | মোবাইল: 01826668486
Copyright © www.apnarsongbad.com