টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
গাজীপুরের টঙ্গীর চাঞ্চল্যকর শরিফ হোসেন রিফাত হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত তাইজুল ওরফে কাজল কে ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ীয়া থানা গোপীনাথপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব ১ এর একটি আভিযানিক দল। এঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গাছা থানাধীন পলাশোনা এলাকার মো.মাইনুদ্দিন মিয়ার ছেলে নৌকার মাঝি এমারত হোসেন (৩৮)কেও গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। সোমবার র্যাব ১ এর উত্তর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এতথ্য নিশ্চিত করেছে র্যাব ১ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া অফিসার)মোঃ পারভেজ রানা৷
গ্রেফতারকৃত আসামিদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, নিহত শরিফ হোসেন রিফাত হত্যাকান্ডের ঘটনার রহস্য উন্মোচনের জন্য থানা পুলিশের পাশাপাশি র্যাবের গোয়েন্দা সদস্যরা ছায়া তদন্ত শুরু করে। গত রোববার দিবা গত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ী থানার গোপীনাথপুর এলাকা থেকে রিফাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রধান আসামি তাইজুল ইসলাম ওরফে কাজলকে গ্রেফতার করা হয় । প্রাথমিক জিজ্ঞাসা বাদে গাছা থানাধীন পলাশোনা এলাকার খেয়া ঘাটের মাঝি এমারত হোসেনকেও গ্রেফতার করা হয় ।
কেনো এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এবং কি ভাবে ঘটেছে ? এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান আসামি তাইজুল ওরফে কাজলের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, আনুমানিক একমাস পূর্বে নিহত রিফাত ও কাজলের মাঝে দেনা পাওনা নিয়ে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। সেই দ্বন্দ্বের জেরেই গত ৫ই জুন সোমবার বিকালে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজল তার অপর সহযোগী সোহাগ এর সহায়তায় নিহত রিফাত কে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে তার বাসা থেকে ডেকে এনে তুরাগ নদী পার হয়ে তারা সাতাশকান্দি চরে যায় এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী সন্ধ্যা অবধি অপেক্ষা করে। পরে রাত ৮টার দিকে পাওনা সেই টাকার প্রসঙ্গ তুলে রিফাতকে মারধর শুরু করে অভিযুক্ত কাজল ও সোহাগ । এতে গুরুতর আহত হন নিহত রিফাত । পরে কাজল জালের রশি দিয়ে গুরুতর আহত রিফাতের হাত বেঁধে খেয়া ঘাটের অপর পাড়ে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী নিয়োজিত মাঝি এমারত হোসেন’কে ডাক দিয়ে এপারে নিয়ে আসে অভিযুক্তরা। পরে এমারতের সহযোগিতা নিয়ে নিহত রিফাতকে গুরুতর আহত অবস্থায় নৌকায় উঠায়। নৌকা মাঝ নদীতে আসলে রিফাতের গায়ে থাকা টি-শার্ট ও সেন্টু গেঞ্জি খুলে পুনরায় হাত পা বাঁধে । পরে গুম করার উদ্দেশ্যে গুরুতর আহত রিফাত কে নদীতে ফেলে মৃত্যু নিশ্চিত করে বলে জানান তিনি।
এবিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও তিনি সংবাদ সম্মেলনে জানান।
উল্লেখ, ৫ জুন টঙ্গীর এরশাদ নগরের বাসা থেকে পাঠাও চালক শরিফ হোসেন রিফাতকে দুই জন ডেকে নিয়ে যায়। ৬ জুন বিকালে তুরাগ নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় গাছা থানায় হত্যা মামলা হয়। ৬ জুন এরশাদ নগরে বিক্ষুব্ধ জনতা মহাসড়ক অবরোধ করে। এরপর টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ এক আসামি সোহাগকে গ্রেপ্তার করে। রবিবার দিবাগত রাত ও দিনে র্যাব এই মামলায় আরো দুই জনকে গ্রেপ্তার করে।
প্রকাশক ও সম্পাদক | মনিরুল ইসলাম রাজিব | মোবাইল: 01923355655
নির্বাহী সম্পাদক | মোঃ তামিম খান | মোবাইল: 01826668486
Copyright © www.apnarsongbad.com