
ব্রাজিল থেকে আসা একটি কনটেইনারে চট্টগ্রাম বন্দরে তেজস্ক্রিয়তা শনাক্ত করা হয়েছে। এটি বন্দরের মেগাপোর্ট ইনিশিয়েটিভ রেডিয়েশন ডিটেকটিভ সিস্টেমে ধরা পড়ে, যার পর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কনটেইনারটির খালাস স্থগিত করে দিয়েছে।কাস্টমসের নথি অনুযায়ী, ঢাকার আল আকসা স্টিল মিলস লিমিটেড ব্রাজিল থেকে পাঁচ কনটেইনারে ১৩৫ টন পুরোনো লোহার টুকরা (স্ক্র্যাপ) আমদানি করেছিল। তেজস্ক্রিয়তা পাওয়া কনটেইনারটি ছিল এর মধ্যে একটি। বুধবার কনটেইনারটি খালাসের সময় মেগাপোর্টের যন্ত্রে তেজস্ক্রিয়তার সংকেত বেজে ওঠে। প্রাথমিক ও দ্বিতীয় পর্যায়ের পরীক্ষায় কনটেইনারের ভেতরে থোরিয়াম ২৩২, রেডিয়াম ২২৬ ও ইরিডিয়াম ১৯২—এই তিনটি রেডিওনিউক্লাইড আইসোটোপের সন্ধান পাওয়া গেছে। তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা পাওয়া গেছে এক মাইক্রোসিয়েভার্টস, যা উচ্চ মাত্রা নয়। তবে সঠিক মাত্রা জানতে পরমাণু শক্তি কমিশনকে জানানো হয়েছে।
এই কনটেইনারটি ব্রাজিলের মানাউস বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে পানামার ক্রিস্টোবাল, নেদারল্যান্ডসের রটারড্যাম এবং শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দরে ঘুরে চট্টগ্রামে এসেছে। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বন্দরে তেজস্ক্রিয়তা ধরা পড়লে সেটি উৎস দেশে ফেরত পাঠাতে হয়। এই চার বন্দরের মধ্যে তিনটিতেই তেজস্ক্রিয়তা শনাক্তকরণ যন্ত্র থাকলেও কোনোটিতেই এটি ধরা পড়েনি, তবে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে ২০১১ সালে স্থাপিত চট্টগ্রাম বন্দরের যন্ত্রে এটি ধরা পড়েছে।
এর আগে ২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দরে বাংলাদেশের একটি কনটেইনারে তেজস্ক্রিয়তা ধরা পড়েছিল এবং সেটি ফেরত আনা হয়েছিল। সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত পদার্থবিজ্ঞানী মাসুদ কামাল বলেন, সহনীয় মাত্রার বেশি তেজস্ক্রিয়তার সংস্পর্শে এলে মানবস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি রয়েছে, তাই কনটেইনারটি আলাদা করে রাখা উচিত।
প্রকাশক ও সম্পাদক | মনিরুল ইসলাম রাজিব | মোবাইল: 01923355655
নির্বাহী সম্পাদক | মোঃ তামিম খান | মোবাইল: 01826668486
Copyright © www.apnarsongbad.com