গাজীপুর প্রতিনিধি :
গাজীপুর মহানগরে ২৪ ঘণ্টায় পৃথক স্থান থেকে দুই কিশোরীসহ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোররাতে বাসন থানা এলাকা থেকে এক অটোরিকশা চালকের, সকালে সদর থানার মাস্টার বাড়ি এলাকা থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ছাড়া বুধবার গাছা থানার এলাকা থেকে দুই কিশোরীর লা*শ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গাজীপুর সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মহিউদ্দিন বলেন, সকালে মাস্টারবাড়ী এলাকায় একটি দোকানের চাল থেকে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, চালের টিন কেটে ভেতরে ঢুকতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনি মারা গেছেন।
নিহত মো. রাসেল (৩০) সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি থানার চালা অফিসপাড়া এলাকার মো. আকবরের ছেলে। মর*দেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভোরে বাসন থানার সার্ডি রোড এলাকায় এক চালককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে তার অটোরিকশাটি ছিনতাই করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
নিহত নূর ইসলাম (৪৫) সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বাকারকান্দা গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে। তিনি চান্দনা বউবাজার এলাকায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন।
বাসন থানার ওসি আবু সিদ্দিক বলেন, “নূর ইসলাম রাত ১টার দিকে অটোরিকশা নিয়ে বের হন। দুর্বৃত্তরা তাকে বুকে ও কানের কাছে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে অটোরিকশাটি নিয়ে গেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
অপরদিকে, গাছা থানা এলাকা থেকে বুধবার নাদিয়া আক্তার (১০) এবং সুমাইয়া খাতুনের (১৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গাছা থানার ওসি মো. আশরাফ হোসেন জানান, নিহত দুই কিশোরীর মর*দেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিহত সুমাইয়া পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার উত্তর পৌতখালি এলাকার মোস্তফা আকন্দের মেয়ে। বাবা-মায়ের সঙ্গে গাছা থানার বটতলা এলাকায় বসবাস করত। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
নিহত সুমাইয়ার বড় ভাই সোহাগ হোসেন বলেন, “বুধবার সন্ধ্যায় গলায় ফাঁস দিয়ে সে আত্মহত্যা করেছে। তবে কেন সে ফাঁ*স নিল তা আমরা কেউ বুঝতে পারছি না।”
অপর কিশোরী কিশোরগঞ্জের মিঠামইন থানার আব্দুল সালামের মেয়ে নাদিয়া আক্তারও ফাঁস নিয়ে আত্ম*হত্যা করেছে। সে মহানগরীর হারিকেন এলাকায় বাবা-মায়ের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকত এবং একটি নুরানি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত।
নাদিয়ার বাবা মাছ ব্যবসায়ী আব্দুল সালাম বলেন, “বুধবার সকালে মেয়ের কক্ষের দরজা খুলতে গেলে ভেতর থেকে দরজা লাগানো অবস্থায় পাওয়া যায়। তখন পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ দরজা খুলে গলায় ওড়না পেঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। এত ছোট মেয়ে কেন আত্মহত্যা করবে আমরা তা ভেবে পাচ্ছি না।”
প্রকাশক ও সম্পাদক | মনিরুল ইসলাম রাজিব | মোবাইল: 01923355655
নির্বাহী সম্পাদক | মোঃ তামিম খান | মোবাইল: 01826668486
Copyright © www.apnarsongbad.com