গাজীপুর প্রতিনিধি :
গাজীপুর শ্মশান মন্দিরে ফলহারিনী শ্মশান কালী পূজা
প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন ভাওয়াল রাজ শ্মশান মঠ মন্দিরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষা করে বৈশ্বিক দরবারে তুলে ধরতে রানী বিলাসমনি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তণ শিক্ষক ব্যক্তিত্বের বিভা অক্ষয় কুমার সাহার ছায়াধন্য একঝাঁক তরুণ এগিয়ে আসে। শ্যামা মায়ের পূজা, চলচ্চিত্র প্রদর্শন, শ্যাম সঙ্গীত ও আর্ট ইনস্টলেশনের আয়োজন করেন তাঁরা। গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে রাত আড়াইটা পর্যন্ত গাজীপুরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ভাওয়াল রাজ শশ্মশান মঠ মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় এ অনুষ্ঠান।
'শ্মশানে জাগিছে শ্যামা, ডাকিছে আপনারে' প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে ভাওয়াল রাজ প্রতিষ্ঠিত মঠমন্দির সংরক্ষণ কমিটি ও বইপোকা পাঠাগারের সহযোগিতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানা হয় শ্যামা মায়ের পূজা অন্ত্যে মধ্যরাতে।
উল্লেখ্য, ভাওয়াল রাজ পরিবারের রাজ শ্মশানঘাটটি (রাজ শশ্মশানেশ্বরী) বাংলাদেশের একটি অন্যতম আকর্ষণীয় প্রত্নতত্ত্ব স্থান। ১৮৫৬ সালে কালী নারায়ণ রায় বংশানুক্রমে ভাওয়াল রাজবংশের জমিদারির দায়িত্ব পান। কালী নারায়ণের শাসনামলে ভাওয়াল রাজবাড়ী এবং ভাওয়াল রাজ শ্মশানেশ্বরী নির্মাণ করা হয়। এই শশ্মশান চতুরে অবস্থিত শিব মন্দিরটি এক কথায় অনন্য। পাঁচটি চূড়ার সমন্বয়ে তৈরি এই শিব মন্দিরটি তৎকালীন বিখ্যাত ভারতীয় স্থপতি কামাখ্যা রায় এর নক্সায় তৈরি করা হয়। প্রায় ছয় তলার সমান উঁচু এই অনিন্দ সুন্দর মন্দিরটির শরীর জুড়ে নানা নিখুঁত কারুকার্যে পরিপূর্ণ।
এই স্থানেই শ্মশানকালী পূজার অনুষ্ঠানসূচী তিনটি সেশনে ভাগ করে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে শ্যামাসঙ্গীতের সুরের মূর্ছনায় আর্ট ইনস্টলেশন যেখানে শ্যামা মায়ের চরণে ভক্তি নিবেদন করে সঙ্গীত পরিবেশন করেন দরদী লোকগানের দলের সদস্য দেবাশীষ ডুব, শাহরিয়ার শামীম, অনুরাগী মিলা, অভিলাষ দাস। এছাড়াও স্থানীয় সঙ্গীতশিল্পী ঋষি, অর্জুন, রাজশ্রী পাল, অনিক সাহা, ঋদিত্ব চৌধুরী, বৃষ্টি সরকার, পলি রানী দাস এবং অন্তিম কিশোর বর্মন। দ্বিতীয় সেশনে সিনেমা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। প্রদর্শিত হয় নিঠুর বনে বিধুর নিরুপম (নিরীক্ষাধর্মী চলচ্চিত্র: এই শশ্মশান মন্দির নিয়ে নির্মিত), বাবা ইন বুদাপেস্ট (কল্পনাচিত্র: বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ইউরোপ যাত্রা), জড় আয়ু (প্রামাণ্যচিত্র: আশোক কুমার নাথ এর উপর নির্মিত) ও কৈলাস (সিনেমা: স্বর্গের বৈষ্ণব পিতামহকে উদ্দেশ্য করে)। তারপরে তৃতীয় সেশনে অনুষ্ঠিত হয় শ্বাশানকালী পূজা।
অনুষ্ঠানে হাড়িনাল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাধব চন্দ্র মন্ডলের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক অসীম বিভাকর, গাজীপুর সরকারি মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মনির, ২৮ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হাসান আজমল ভূঁইয়া, মহিলা কাউন্সিলর অ্যাড. আয়েশা আক্তার, ভাওয়াল রাজ প্রতিষ্ঠিত শ্মশান মঠ মন্দির পরিচালনা ও সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি নেপাল চক্রবর্তী; সহ-সভাপতি মন্তোষ গোপ।
সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন অধ্যাপক রতন চন্দ্র শীল, শ্যামল চন্দ্র দে, তপন কুমার চক্রবর্তী, ভাস্কর কুয়াশা বিন্দু, শামসুল ইসলাম স্বপন, তন্ময় দাস, জয় চন্দ্র, সুকান্ত পাল, অপূর্ব সাহা, রকিবুল ইসলাম, উত্তম চন্দ্র মন্ডল, দীপ্ত চক্রবর্তী। ঢাকা থেকে আগত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন অভিনেতা মনোজ প্রামাণিক ও দেশ বরেণ্য চলচিত্র নির্মাতা এন রাশেদ চৌধুরী, কামার আহমদ সায়মন, আকরাম খান, সারা আফরিন, সজন মাঝি, খালেদ সাদমান, আহাদুল সিরাজ, সৌরভ সাহা, সুবর্ণা মোরসেইদা, আনাজ আল ইসলাম এবং তাহুয়া লাবিব তুরা।
প্রসঙ্গত, প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ মাসের অমাবশ্যা তিথিতে ফলহারিণী রূপে পূজিতা হন মা কালী। সেই কারণে এই পূজাকে ফলহারিণী কালীপূজা বলা হয়। আর জ্যৈষ্ঠ অমাবস্যা পালিত হয় ফলহারিণী অমাবস্যা হিসেবে। ফলহারিণী কথার অর্থ হল ফল হরণকারী। ফলহারিণী রূপে আদ্যাশক্তি মহামায়া কালী সব অশুভ ফল হরণ করেন। হিন্দুমতে প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে এই তিথিতে মা কালীর পূজা করলে অশুভ কাজের ফল নাশ হয় এবং শুভ ফল লাভ হয়।
প্রকাশক ও সম্পাদক | মনিরুল ইসলাম রাজিব | মোবাইল: 01923355655
নির্বাহী সম্পাদক | মোঃ তামিম খান | মোবাইল: 01826668486
Copyright © www.apnarsongbad.com