ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি :
দেশের শিমের রাজ্যে হিসেবে পরিচিত পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রায় ৩০ বছর ধরে বাণিজ্যিকভাবে শিমের আবাদ হয়ে আসছে। শিম সাধারণত শীতকালীন সবজি হলেও এ উপজেলার কৃষকরা এক যুগ ধরে আগাম শিমের আবাদ করছেন। এতে চাষিরা প্রতিবছরই ভালো লাভবান হচ্ছেন। এবার অতিবৃষ্টির কারণে শিমের জমিতে হলুদ মোজাইক নামে একধরনের ভাইরাস আক্রমণ করেছে। এছাড়াও সাদা মাছি ও জাব পোকা শিম ক্ষেত নষ্ট করছে। এতে আগাম শিম চাষ করে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন ধূসর হতে চলেছে চাষিদের।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ঈশ্বরদীতে এবার শিম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছে ১২৯০ হেক্টর জমি। এরমধ্যে আগাম জাতের অটোশিমের আবাদ হয়েছে ৮৯০ হেক্টর জমিতে।সরেজমিনে, উপজেলার আগাম শিম চাষের গ্রাম খ্যাত রামনাথপুর, বেতবাড়িয়া, শেখপাড়া, মুলাডুলি, ফরিদপুর, বাঘহাছলা, সরাইকান্দি, আটঘরিয়া ও শ্রীপুর এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, আগাম জাতের বেশিরভাগ শিমক্ষেত ফুলে ফুলে ভরে গেছে। ফুলের মাঝে মাঝে শিম ঝুলে আছে। তবে অন্যবারের তুলনায় এবার শিমের ফলন খুব কম চোখে পড়েছে। কৃষকরা কেউ গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত আবার কেউ শিম তোলায় ব্যস্ত। এসবের মাঝে কৃষকদের সবচেয়ে বড় দুর্শ্চিতা শিমে ভাইরাস ও ছাত্রকের আক্রমন। এতে ফলন কম হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রামনাথপুর গ্রামের কৃষক রায়হান আলী শিমের জমি ভাইরাস থেকে রক্ষা করতে কীটনাশক স্প্রে করছিলেন। এসময় তিনি বলেন,এবার অতিবৃষ্টির কারণে আগাম শিমের জমিতে ভাইরাস আক্রমণ করেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত গাছের লতা কুঁকড়ে যাচ্ছে ও পাতা হলুদ হয়ে যাচ্ছে। এ ভাইরাস থেকে শিম গাছ বাঁচাতে কীটনাশক স্প্রে শুরু করেছি। এতেও খুব বেশি সুফল মিলছে না। এবার শিমের কি যে হবে বুঝে উঠতে পাচ্ছি না।বাঘহাছলা গ্রামের চাষি হাবিবুর রহমান বলেন, শিমের জমিতে যে রোগ দেখা দিয়েছে এতে ফলন কম হবে এবং একটা সময় এ শিম বিক্রি করা কঠিন হয়ে যাবে। এ রোগের কারণে পাতা হলুদ হয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন গাছের লতা ও পাতা কেটে ফেলে দিতে হচ্ছে। একই গ্রামের কৃষাণী সূর্যবান বলেন, এক বিঘা জমিতে শিমের আবাদ করেছি। জমি জুড়ে ভাইরাস আক্রমণ করেছে। প্রতিদিন সকালে এসে হলুদ এবং কুঁকড়ে যাওয়া লতা, পাতা ও ডগা ছিড়ে ফেলে দিতে হচ্ছে। এতে ফলন কমে যাবে। সার ও কীটনাশকের খরচও বাড়ছে।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন বলেন, ঈশ্বরদী উপজেলায় ৮৯০ হেক্টর জমিতে আগাম শীমের আবাদ হয়েছে। ইতিমধ্যে শিম হারবেষ্ট শুরু হয়ে গেছে। অতিবৃষ্টির কারণে কৃষকের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বৃষ্টি থেমে গেলে কৃষক আরো লাভবান হবে বলে আশা করছি।
প্রকাশক ও সম্পাদক | মনিরুল ইসলাম রাজিব | মোবাইল: 01923355655
নির্বাহী সম্পাদক | মোঃ তামিম খান | মোবাইল: 01826668486
Copyright © www.apnarsongbad.com