আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় হাদরামাউ প্রদেশে সৌদি আরবের বিমান হামলা চালানোর খবর পাওয়া গেছে, যা দেশটির সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলার পেছনে রয়েছে সৌদি আরবের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের লক্ষ্য। একদিন আগে সৌদি আরব বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দখলকৃত এলাকা ত্যাগের আহ্বান জানায় এবং পরবর্তীতে বিমান হামলা চালানো হয়।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকারের প্রধান সমর্থক হিসেবে সৌদি আরবের ভূমিকা রয়েছে, তবে সাম্প্রতিক হামলা কয়েক বছর স্থিতিশীল থাকা এলাকায় নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতে ইরান ও সৌদি আরবসহ আঞ্চলিক শক্তির অংশগ্রহণ সংকটকে তীব্র করে তুলেছে।
বিচ্ছিন্নতাবাদীরা জানিয়েছে, ওয়াদি নাহবের হাদরামি এলিট ফোর্সেসের অবস্থানে সৌদি বিমান হামলা হয়েছে। আমিরাতের সমর্থিত সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) জানায়, ওই এলাকায় একাধিক বিমান হামলা সংঘটিত হয়েছে। স্থানীয় সামরিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের পর উপজাতীয় নেতারা এলাকা ত্যাগ করেছেন।
বিচ্ছিন্নতাবাদীরা চলতি মাসের শুরুতে হাদরামাউত ও মাহরা প্রদেশ দখল করে, যা সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের জন্য নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করেছেন, এসটিসির অগ্রগতি আঞ্চলিক উত্তেজনা ও বিভাজন বাড়াতে পারে, যা শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য হুমকি।
২০১৪ সালে হুথি বিদ্রোহীদের রাজধানী সানা থেকে সরকার উৎখাতের পর থেকে দেশটি বিভক্ত। ২০১৫ সাল থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও হুথিদের মধ্যে সংঘাত চলছে, যা ব্যাপক মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছে। ২০২২ সালের পর আংশিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও, সাম্প্রতিক হামলা পরিস্থিতিকে আরো সংকটাপন্ন করতে পারে।
এই ঘটনা শুধুমাত্র ইয়েমেনের রাজনীতি নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও শান্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ বাড়লে, তা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই এই অবস্থা মনোযোগ সহকারে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
প্রকাশক ও সম্পাদক | মনিরুল ইসলাম রাজিব | মোবাইল: 01923355655
নির্বাহী সম্পাদক | মোঃ তামিম খান | মোবাইল: 01826668486
Copyright © www.apnarsongbad.com